Showing posts with label জীবব‌িজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label জীবব‌িজ্ঞান. Show all posts

Friday, October 5, 2018

ড্রাগনকাহিনী : যেভাবে মানবসভ্যতায় আগমন ঘটেছিলো আগুনমুখো ড্রাগনদের।

আমাদের শৈশবের স্মৃতিগুলোকে অল্প যে ক’টি জিনিস অতিরিক্ত মাত্রায় রাঙিয়ে তুলতে পেরেছিলো, রুপকথার গল্প সেগুলোর মাঝে অন্যতম। আমাদের এই উপমহাদেশীয় রুপকথার গল্প দিয়ে শুরু হয় সেই যাত্রা, যেখানে মিশে থাকে ভূত-প্রেত-দৈত্য-দানো-শাকচুন্নির মতো কাল্পনিক চরিত্রগুলোর সাথে রাজপুত্রের যুদ্ধজয়, থাকে সাধারণ কোনো মানুষের অসাধারণ বুদ্ধির জোরে সেসব প্রেতাত্মার হাত থেকে বেঁচে যাবার বুদ্ধিদীপ্ত কাহিনী প্রভৃতি।
টিভি সিরিয়ালে দেখা ড্রাগন।
একটু বড় হলে, এবং সেই সাথে আগ্রহ টিকে থাকলে, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের নানা রুপকথার বইও পড়া শুরু করে অনেকে। তখন চীনা, জাপানী, মিশরীয়, গ্রিক, রোমান, নর্স, রুশী, আফ্রিকান রুপকথার বইতে ভরে যেতে থাকে আমাদের বইয়ের তাক, ডানা মেলতে থাকে আমাদের কল্পনার প্রজাপতি, রঙিন থেকে রঙিনতর হয়ে উঠতে থাকে আমাদের শৈশব-কৈশোর।
ঠাকুমার ঝুলি রাঙিয়ে তুলেছিল আমাদের অনেকের শৈশবকেই।

বিদেশী রুপকথাগুলোর যেসব প্রাণী আমাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে, ড্রাগন নিঃসন্দেহে এর মাঝে শীর্ষস্থানীয়। কী এক বিচিত্র রকমের শক্তিশালী প্রাণী। বিশাল তার দেহ, যা দেখলেই পিলে চমকে যায়, যার ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় বিশাল একটি এলাকা। আছে বিশাল দুটি ডানা, যার ঝাপ্টায় ভেঙে পড়ে বাড়িঘর, মারা পড়ে অগণিত মানুষ। লেজে থাকে বড় বড় কাটা, যার একটি ধাক্কা নিমিষে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয় তার সাথে লড়াই করতে আসা মানুষগুলোকে। আছে সারা গায়ে পুরু চামড়া ও আঁশের আস্তরণ, যার সামনে অচল হয়ে পড়ে প্রচলিত প্রায় সব অস্ত্র, অসহায় হয়ে পড়ে শত শত দক্ষ যোদ্ধাও। নিঃশ্বাসে যার বের হয় কালো ধোঁয়া, যে ধোঁয়া মনকেও ভয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

আর আছে মুখ থেকে বের হওয়া লেলিহান আগুনের শিখা, চরম ক্রোধের মুহূর্তে যার নিঃসরণ পাল্টে দিতে পারে গোটা যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি, পুরো রণাঙ্গনকে পরিণত করতে পারে নরকেরই ছোটখাট একটি অগ্নিকুণ্ডে। ড্রাগন এমনই ভয়ানক এক প্রাণী। তবে মানবজাতির সৌভাগ্য, যে প্রাণীকে তারা এত ভয়াবহ রুপে সাজিয়েছে, সেই প্রাণী কেবল তাদের কল্পনাতেই থেকে গেছে। বাস্তবে সে আসলে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারতো, তা বোধহয় না বললেও চলে!
শিল্পীর কল্পনায় ফুটে ওঠা ড্রাগন।
একেক সংস্কৃতিতে এই ড্রাগন এসেছে একেক রুপ নিয়ে। কোথাও বেশ সদাশয়, কোথাও আবার বেশ ভয়াবহ এক প্রাণী হিসেবে। তবে উভয়ক্ষেত্রেই তাকে হত্যা করা ছিলো বেশ দুরূহ একটি ব্যাপার। এটা সেই এলাকার ভৌগলিক অবস্থানের উপরও নির্ভর করতো। প্রাচ্যের সংস্কৃতিতে ড্রাগনদেরকে দেখা যায় বেশ জ্ঞানী এক সত্ত্বা হিসেবে, সমুদ্র ও পানির উপর যাদের রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। এর পাশাপাশি ড্রাগনকে সাধারণ মানুষের প্রতি বেশ দয়ালু হিসেবে দেখার রীতিও দেখা যায় এখানে, যাদের প্রভাবে দূর হয়ে যায় যাবতীয় অপপ্রভাব।
পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে আবার ড্রাগন এসেছে পুরোপুরি বিপরীত রুপে। এখানে সে বিশালদেহী, ভয়ানক এক প্রাণী, যে কি না হত্যা, ধ্বংসেই মত্ত থাকে সারাদিন। তার বাস এমন দুর্গম, অন্ধকারাচ্ছন্ন, বিপজ্জনক স্থানে, যেখানে যেতে মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তবে এই ড্রাগনরা একটি কাজ করতো। তারা ছিলো বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির পাহারাদার।
শিংওয়ালা ড্রাগন।
প্রাচ্য কিংবা পাশ্চাত্য, যে সংস্কৃতির কথাই বলা হোক না কেন, উভয়ক্ষেত্রেই মধ্যযুগের আগপর্যন্ত ড্রাগনের কোনো ডানা গজায়নি! অর্থাৎ, তখন পর্যন্ত গল্পকারেরা ড্রাগনের ডানা জুড়ে দেননি। এই সময়কাল থেকে পাশ্চাত্যের ড্রাগনগুলোকে ডানাওয়ালা হতে দেখা যায়, অন্যদিকে প্রাচ্যের ড্রাগনগুলো আগের মতোই থেকে যায়, অর্থাৎ ডানাবিহীন।
ড্রাগন নিয়ে উপকথারও কমতি নেই। বিশালাকায় এই প্রাণীটির রক্তের কথাই ধরা যাক না। বিভিন্ন উপকথায় এসেছে, কেউ যদি ড্রাগনের রক্তে ডুবানো ছুরি বা তলোয়ার দিয়ে কাউকে আঘাত করে, তবে আহত ব্যক্তির ক্ষত কখনোই সারবে না। এটা তো গেলো ড্রাগনের রক্তের খারাপ দিক। আবার এর ভালো দিকও আছে। এই রক্ত নাকি একজন মানুষকে ভবিষ্যতে দেখার ক্ষমতাও দিতে পারতো। প্রাচ্যের ড্রাগনগুলো আবার ইচ্ছেমতো তাদের আকার পরিবর্তন করতে পারতো, এমনকি চাইলে ধারণ করতে পারতো মানুষের আকৃতিও!
গেম অফ থ্রোন্স টিভি সিরিজের একটি পর্বে ড্রাগনের আক্রমণে পুড়ে ছারখার শত্রুশিবির।
কালে কালে গল্পকারদের হাতে পড়ে ড্রাগন যে কোথা থেকে কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, উপরের লেখা পড়ে তার কিছুটা হয়তো অনুমান করা যায়। এই সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলোতে এই সম্পর্কে আরো আলোকপাত করা হবে। কিন্তু, একেবারেই কাল্পনিক একটি প্রাণী বিশ্বব্যাপী মানুষের মনে জায়গা করে নিলো কীভাবে- কখনো কি এই প্রশ্নটি আপনার মনে উঁকি দিয়েছে? ড্রাগনের নানা কাহিনী গল্পের বইয়ে পড়ে, কিংবা হাল আমলে অত্যন্ত জনপ্রিয় গেম অফ থ্রোন্স টিভি সিরিজে ডেনেরিস টার্গারিয়েন ‘ড্রাকারিস’ বলামাত্র আগুনের লেলিহান শিখায় সবকিছু ছারখার করে দেয়া ড্রাগন প্রকৃতপক্ষে কোথা থেকে আসলো, সেই প্রশ্ন কি আপনাদের মনের জানালায় কখনো টোকা দিয়ে যায়নি?
দেরি না করে চলুন তাহলে ড্রাগন নিয়ে শুরু হওয়া আমাদের এই উপকথাভিত্তিক সিরিজের প্রথম পর্বে সেই ইতিহাসেরই অনুসন্ধান করে আসা যাক।

কীভাবে মানবসমাজে আগমন ঘটলো ড্রাগনদের?

প্রশ্নটি রাখা হয়েছে একেবারে সরাসরি, তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এর সরাসরি কোনো উত্তর নেই। শত-সহস্র বছর আগে থেকে বিভিন্ন উপকথায় ড্রাগনদের উপস্থিতির কথা জানা যায়। আর কীভাবে সেগুলোতে এই প্রাণীগুলো স্থান করে নিলো, এর পেছনে গবেষকগণ দিয়েছেন নানা রকম যুক্তি। এখন একে একে আমরা সেগুলোই জানার চেষ্টা করবো

(১) কুমিরঃ

কুমিরের কথা বলতে গেলে এখানে দু’প্রজাতির কুমির নিয়ে আলাপ করতে হবে।
ফ্লোরিডার সেইন্ট অগাস্টিন ক্রোকোডাইল ফার্মের একটি নোনাপানির কুমির।
প্রথমেই আসবে সল্টওয়াটার ক্রোকোডাইল, তথা নোনাপানির কুমিরের নাম, যা একইসাথে এস্টুয়ারাইন ক্রোকোডাইল, ইন্দো-প্যাসিফিক ক্রোকোডাইল, মেরিন ক্রোকোডাইল, সী ক্রোকোডাইল প্রভৃতি নামে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বের বুকে বিচরণ করে বেড়ানো সরিসৃপদের মাঝে এই নোনাপানির কুমিরই সর্ববৃহৎ। এরপরেই আসবে নাইল ক্রোকোডাইল, তথা নীলনদের কুমিরদের নাম। এই কুমিরগুলো আফ্রিকার সর্ববৃহৎ মিঠাপানীর শিকারী প্রাণী। এছাড়া দৈর্ঘ্যের দিক থেকে নোনাপানির কুমিরের ঠিক পরেই রয়েছে এর অবস্থান।
দক্ষিণ আফ্রিকার লা বনহুর ক্রোকোডাইল ফার্মের কিছু নীলনদের কুমির।
নোনাপানির কুমিরগুলো ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেখা যায়। নীলনদের কুমিরগুলোকে সাব-সাহারান আফ্রিকার নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাভূমিগুলোতে দেখা যায় এখন। তবে আগেকার দিনে তাদের বিস্তার আরো অনেক জায়গা জুড়েই ছিলো। ইতিহাস বলে, নীলনদের এই কুমিরগুলোকে এককালে ভূমধ্যসাগরের উত্তরাঞ্চলেও দেখা যেত। অর্থাৎ দক্ষিণ ইতালি, গ্রিস ও স্পেনের অধিবাসীদের মাঝে মাঝেই মুখোমুখি হতে হতো জলের এই দানবদের সাথে।
কুমিরের সাথে মিল রেখে চিত্রিত কাল্পনিক ড্রাগন।
২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা এই নীলনদের কুমিরেরা তাদের শরীরের মধ্যভাগ একেবারে ভূমি থেকে তুলে দাঁড়াতে সক্ষম, যা সাধারণত হাই ওয়াক (High Walk) নামে পরিচিত। নোনাপানির কুমিররা তো আরো এককাঠি সরেস। লম্বায় মাঝে মাঝে ২৩ ফুট ছুঁয়ে ফেলা এই প্রাণীগুলো শিকারকে ধরতে কখনো কখনো তো পানি থেকেই উপরের দিকে লাফিয়ে ওঠে। এখান থেকেই ধারণা করা হয়, নীলনদের কুমিরদের এই আচরণই হয়তো আস্তে আস্তে গল্পকারদের এমন ড্রাগন চরিত্র তৈরিতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে, যা তার পেছনের পায়ে ভর করে দাঁড়িয়ে শত্রুকে খতম করে দেয়।

(২) ডায়নোসরঃ

এবার আসা যাক ডায়নোসরদের কাছে। ড্রাগনদের অস্তিত্ব না থাকুক, বিশালাকায় ডায়নোসররা যে এককালে সত্যি সত্যিই এই ধরনীর বুকে বিচরণ করে বেড়িয়েছে, তা তো আজ সবাই জানে। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদই মনে করেন, প্রাচীনকালে মানুষজন যখন ডায়নোসরদের বিশাল বিশাল সব ফসিল খুঁজে পেত, তখন থেকেই মানুষের মনে ধীরে ধীরে ড্রাগনের উপকথা জন্ম নিতে থাকে।
শিল্পীর কল্পনায় যখন পৃথিবীর বুকে বিচরণ করতো ডায়নোসররা।
উদাহরণস্বরুপ, ক্বিজিয়াংলং ডায়নোসরের কথা বলা যায়। ৪৯ ফুট, অর্থাৎ প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান উঁচু এই ডায়নোসরটির প্রজাতি আজ থেকে প্রায় ১৬ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেড়াতো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে চীনের হেবা গ্রামের কৃষক চাই চ্যাংমিং সর্বপ্রথম এর একটি কশেরুকা খুঁজে পান। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে নিকটবর্তী ক্বিজিয়াং জেলার একটি কনস্ট্রাকশন সাইটে ডায়নোসরটির ফসিলের বেশ বড় একটি সংগ্রহ আবিষ্কৃত হয়।
আজকের দিনে জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবার বদৌলতে আমরা হয়তো দেখেই বলে দিতে পারছি, এটা অমুক প্রজাতির ডায়নোসরের ফসিল। কিন্তু একটু শত-হাজার বছর আগেকার মানুষগুলোর কথা ভাবুন। তাদের কাছে তো আর আজকের দিনের মতো জ্ঞান, প্রযুক্তির কিছুই ছিলো না। ফলে অতিকায় সেসব ফসিলের সন্ধান তারা যখন পেতো, তখন তারা ড্রাগনের মতো অতিকায় কোনো প্রাণীর কথা যে কল্পনা করবে, তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কারণ ইতিহাস বলে, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতক থেকেই চীনে ডায়নোসরের ফসিল নিয়ে গবেষণা চলছে।

(৩) তিমিঃ

নীল তিমি।
বৃহদাকার প্রাণীদের কথা আসবে, আর সেখানে তিমি অনুপস্থিত থাকবে, সেটা কী করে সম্ভব? কেউ কেউ তাই মনে করেন, তিমির মতো বৃহদাকার প্রাণীদের সন্ধান পাওয়াটাও হয়তো ডায়নোসরের উপকথা গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। প্রাচীনকালে মানুষজন যখন তিমির অস্থির সন্ধান পেতো, তখন এই প্রাণীটি সম্বন্ধে তাদের জানার সুযোগ ছিলো খুবই সীমিত। ফলে একদিকে সীমিত জ্ঞান, অপরদিকে বিশালাকার অস্থি- এই দুইয়ে মিলে মানুষের মনে তিমি সম্পর্কে ভয়ঙ্কর এক শিকারী প্রাণীর প্রতিচ্ছবি গড়ে তুলেছিল, যা থেকেও ড্রাগনের উৎপত্তি হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।


(৪) গোয়ানাঃ


অস্ট্রেলিয়ান প্রাণী গোয়ানা।
অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে প্রায় ২৫ প্রজাতির গোয়ানার বসবাস, যেগুলো মনিটর লিজার্ড নামেও পরিচিত। বড়সড় শিকারী এই প্রাণীগুলোর রয়েছে ধারালো দাঁত ও থাবা। সেই সাথে স্থানীয় উপকথাগুলোতেও এদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। শুধু তা-ই নয়, বছরখানেক আগের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তাদের দেহে বিষও উৎপন্ন হয়, যা আক্রান্ত প্রাণীর দেহে পরবর্তী সময়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এসব থেকে ধারণা করা হয়, অন্তত অস্ট্রেলিয়ায় ড্রাগনের উপকথা জন্মের পেছনে প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছে এই গোয়ানা।


(৫) মানবমনঃ


মানুষের বহুমাত্রিক কল্পনা।
দিনশেষে অবশ্য সন্দেহের তীর যদি মানুষের দিকেই তাক করা হয়, সেটাও বোধহয় খুব বেশি অযৌক্তিক হবে না, অন্তত ‘An Instinct for Dragons’ বইয়ের লেখক, নৃতত্ত্ববিদ ডেভিড ই. জোন্স সেটাই মনে করেন। তার মতে, বিবর্তন মানুষের মনে শিকারী প্রাণী সম্পর্কে একটি সহজাত ভয়ের প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে রেখেছে। তার হাইপোথিসিস অনুসারে, অজগর, শিকারী পাখিসহ বড় বড় শিকারী প্রাণীদের সম্পর্কে ভীতি দেখা যায় হোমিনিডদের বেলায়। সেই ভীতি মানুষের মন থেকে সঞ্চারিত হয়েছে বিভিন্ন উপকথায়, আর এর মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে আজকের ড্রাগনেরা।
ড্রাগনের আগমন নিয়ে আপনার অভিমত কী? উপরে বর্ণিত ৫টি কারণের মাঝে কোনটিকে আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়, এবং কেন? একটু সময় নিয়ে ব্যাখ্যা করবেন কি?

ড্রাগনদের নিয়ে সিরিজের পরবর্তী পর্বে আবারও দেখা হবে আপনাদের সাথে। ততদিন পর্যন্ত… ড্রাকারিস…

Saturday, November 25, 2017

অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের আসক্তিতে যে ৫টি ক্ষতি হতে পারে!

সব কিছুরই আছে ভালমন্দ। যে স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না, তার বেলায়ও কথাটা সত্য। এই স্মার্টফোন যেমন ভাল বন্ধু হতে পারে, তেমনই মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকগুলো কী─

(১) শ্রবণ শক্তি কমতে পারেঃ



স্মার্টফোন কান থেকে দূরে রেখে তো আর ব্যবহার করা যায় না। ফলে বেশি সময় কানে ফোন রেখে কথা বললে সমস্যা তৈরি হয়। তুলনায় হেডফোন ব্যবহার করা ভাল। আবার হেডফোন ব্যবহার করে খুব জোরে গান শুনলে কানের ভিতরের কোষে তার প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কেও সমস্যা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

(২) অস্থি-সন্ধির ক্ষতিঃ



অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে কাজের সময় কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন রাখেন। অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে মেসেজ পাঠান। এ সবই শরীরে বিভিন্ন অস্থি-সন্ধির ক্ষতি করে। পাকাপাকি ক্ষতি হতে পারে শিরদাঁড়ায়।

(৩) নিদ্রাহীনতাঃ



স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে সবচে বেশি দেখা দেয় ঘুমের সমস্যা বা নিদ্রাহীনতা। যারা ঘুমাতে যাওয়ার আগে এ ধরনের প্রযুক্তিপণ্য অতিমাত্রায় ব্যবহার করেন তাদের শরীরে মেলাটোনিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। যার কারণ প্রযুক্তিপণ্য থেকে নির্গত উজ্জ্বল আলো। এক পর্যায়ে ঘুমের মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয় এবং স্লিপ ডিজঅর্ডারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

(৪) চোখের জ্যোতি কমতে পারেঃ



খবরের কাগজ বা বই পড়ার ক্ষেত্রে সাধারণত চোখ থেকে গড়ে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থাকে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত চোখ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে তা ব্যবহার করেন। অনেকের ক্ষেত্রে এ দূরত্ব মাত্র ১৮ সেন্টিমিটার। এতে করে মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

(৫) ঘনত্ব কমে শুক্রাণুরঃ


গবেষকেরা জানান, মুঠোফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যানসারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকেদের দাবি, মুঠোফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

Tuesday, October 10, 2017

টিকটিকির লেজ পুনঃসৃষ্টির কৌশল আবিষ্কৃত।

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা টিকটিকির লেজের পুনরায় সৃষ্টির সাথে জড়িত কোষগুলো সনাক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মানবদেহের স্নায়ুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা পুনঃরুৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবনে অগ্রগতির আশা করছেন। অটোটমি (Autotomy) নামক একটি প্রক্রিয়ায় কিছু টিকটিকিকে লেজ খসিয়ে ফেলার সক্ষমতা অর্জন করতে দেখা যায়। শিকারীর কাছ থেকে হুমকীর সম্মুখীন হলেই এ ঘটনাটি ঘটানো হয়। খসে পড়া লেজটি কিছুক্ষণ নড়তে থাকে, ফলে শিকারীর দৃষ্টি বিচ্যুত হয় এবং এই ফাঁকে টিকটিকি নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

এটি সুনির্দিষ্টভাবে টিকটিকি বা গিরগিটির একটি বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু প্রজাতির স্যালম্যান্ডারও এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। লেজ খসানোর পর হতে গিরগিটির লেজটি পুরনায় বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয় এবং নতুন করে গজিয়ে যায়। গেকো নামক গিরগিটির ক্ষেত্রে এটি পুনরায় জন্মাতে ৩০ দিন সময় লাগে। অন্যান্য টিকটিকির ক্ষেত্রে সময় লাগে আরো কম।

বিজ্ঞানীরা, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িতরা এই ক্ষেত্রে যে বিষয়ে আগ্রহবোধ করেছেন তা হলো স্তন্যপায়ীর মতো টিকটিকির স্নায়ুরজ্জু পিঠেই শেষ হয়ে যায় না বরং লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তার মানে হলো যখন টিকটিকি লেজ পুনর্জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু করে তখন সেই সাথে স্নায়ুরজ্জুও বৃদ্ধি পেতে হয়। ধুর্ত এই সরীসৃপগুলো কীভাবে স্নায়ুরজ্জু পুনরোৎপাদন করে, বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে সেই প্রক্রিয়াটি জানতে আগ্রহী।

অধ্যাপক ম্যাথু ভিকারিয়াস এই প্রসঙ্গটি এভাবে ব্যাখ্যা করেন,
"আমরা জানি গেকোর স্নায়ুরজ্জুর পুনোরুৎপাদন ঘটে। তবে আমরা জানতাম না কোন কোষগুলো এর পেছনে অবদান রাখে। মানুষ স্নায়বিক আঘাত নিয়ন্ত্রনে খুবই আনাড়ি। তাই আমি আশা করছি, গেকোর কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু শিখতে পারব যার মাধ্যমে মানুষের স্নায়ুরজ্জুর আঘাত নিজে নিজে নিরাময় করা যাবে।"
বিজ্ঞানীরা শিকারীর মতো আচরণ অণুকরণ করে গবেষণাগারে একটি লেপার্ড গেকোর লেজটি খসিয়ে দেন এবং কোষীয় পর্যায় কী ঘটনা ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা দেখতে পান গেকোর স্নায়ুরজ্জুতে রেডিয়াল গ্লিয়া নামক এক বিশেষ ধরনের স্টেম কোষ থাকে। এই কোষগুলো সব মেরুদন্ডী প্রানীর মধ্যেই পাওয়া যায় এবং প্রানীর প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে। কিন্তু এরপরই নিশ্চুপ হয়ে যায়।

তবে যখন টিকটিকির লেজ খসে যায় তখন অন্য কোনো কিছুর প্রণোদনায় এরা আর নিশ্চুপ থাকে না বরং সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা নতুন কিছু প্রোটিন তৈরি করে এবং দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। ফল এক পর্যায়ে গিয়ে স্নায়ু রজ্জু মেরামত হয়ে যায়। শুধু যে লেজের স্নায়ুতন্ত্রই এরা মেরামত করতে পারে তা নয়, বরং অন্যান্য অংশের এমনটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত হলেও টিকটিকি তা মেরামত করতে পারে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা বেশী উৎসাহবোধ করছেন।

Tuesday, September 5, 2017

উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের প্রথম আগমন বলে ধারনা বদ্ধমূল হচ্ছে।

নতুন গবেষাণায় দেখা গেছে আমাদের এই গ্রহে প্রাণের উদ্ভব শুরু হয়েছে ছোট উষ্ণ পুকুরজাতীয় জলাধারগুলোতে উপর্যুপরি উল্কাপতনের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে সৃষ্ট রাসায়নিক চেইন বিক্রিয়ায় পৃথিবীর প্রথম জেনেটিক কোডটুকু তৈরি হয়।
আদিপ্রাণ বা প্রাণের প্রথম উদ্ভব হয়েছে পানি থেকেই।
এই ওয়ার্ম পন্ড বা উষ্ণ পুকুর হাইপোথিসিস যদিও নতুন নয় তবে সাম্প্রতিক নতুন তথ্য এবং গণনা এই ধারনার পালে হাওয়া যুগিয়েছে এবং এর সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর এস্ট্রোনমির যৌথ গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।

গবেষকদলের সদস্যদের একজন বেন কে. ডি. পিয়ার্স বলেন,
“ইতিপূর্বে কেউই এধরনের গণনা করে দেখে নি। এটা বড়সড় সূচনা এবং খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক।”
এই গণনায় RNA তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হয়েছে। এটি জীবের জীনগত বৈশিষ্ট্য ধারনের এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবেও কাজ করার ভিত্তিমূলক অণু। উক্লাপিন্ডের আঘাতে প্রয়োজনীয় জৈব যৌগের উপস্থিতি তৈরি হওয়ার মাধ্যমে এই অণু তৈরি হতে পারে? নিশ্চিতভাবেই- জানিয়েছে নতুন এই গবেষণার পেছনে থাকা দলটি। যথাযথ বৃষ্টিপাত এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে এই বস্তুগুলো তৈরি হয়। এই RNA পরবর্তীতে আরো জটিকালার ধারন করতে পারে এবং DNA তৈরি করতে পারে।
পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।
তাঁদের গবেষনায় প্রাপ্ত তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গবেষকদলটি জ্যোতির্পদাবিদ্যা, ভূতত্ত্ব, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তথ্য-উপাত্তকেও কাজে লাগায়। গবেষণার সাথে জড়িত অপর এক সদস্য র্যালফ পুড্রিটজ বলেন,
“বিভিন্ন ক্ষেত্রে এতধরনের ইনপুট রয়েছে এবং এদের প্রত্যেকে একই ফলাফল নির্দেশ করছে এটা বিষ্ময়কর।”
নতুন গবেষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের সময়কাল ৩৭০ কোটি বছর হতে ৪৫০ কোটি বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের গণনাকৃত সময়ের তুলনায় এটি আরো প্রাচীন তবে এখনো এর নিশ্চয়তা দেওয়া যায় নি। একটি শিলার নমুনার গবেষণা হতে দেখা যায় সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী জীবের উদ্ভব হয়েছে ৪০০ কোটি বছর আগে।

Sunday, July 9, 2017

পৃথিবীর অদ্ভুত যত প্রাণী!

পৃথিবীর আনাচে-কানাচে কত না জীবজন্তু চরে বেড়াচ্ছে, তার কয়টাকেই বা আপনি দেখেছেন? একশ? দেড়শ?
বা বড়জোর তার চেয়ে খানিকটা বেশিই হবে। কিন্তু ৯ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন কিছু চেহারার প্রাণী রয়েছে যেগুলো দেখলে মনে হবে এগুলোর অস্তিত্ব কি আসলেই রয়েছে? তাহলে, সেরকম কিছু অদ্ভুত প্রাণী দেখতে তৈরি হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।



স্কোটোপ্লেনসঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Scotoplanes Globosa

Scotoplanes Globosa
সমুদ্রের একেবারে তলায় থাকা এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীর অন্য নামও রয়েছে, বিশেষ করে এগুলো “সী পিগ” বা সমুদ্রের শূকর নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার কারণও অবশ্য সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়, এর চেহারার সাথে শুকরের অমিল খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। আটলান্টিক, প্যাসিফিক আর ভারত মহাসাগরের দেড় থেকে ৫ কিলোমিটার নিচে এদের দেখা পাওয়া সম্ভব। সমুদ্রের তলদেশের কাঁদা থেকে এরা নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে নেয়!


গবলিন হাঙরঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Mitsukurina Owstoni
Mitsukurina Owstoni
গভীর সমুদ্রের অন্ধকার জগতের বাসিন্দা এই গবলিন হাঙরের চেহারাটা সত্যিই চমকে ওঠার মতো, যেন একেবারে সাক্ষাৎ শয়তান। লিভিং ফসিল নামে পরিচিত হাঙরের এই প্রজাতি Mitsukurinidae পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য। ১০ ফুট থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হওয়া এসব হাঙরের চেহারা ভয়াবহ হলেও এরা খুব একটা আক্রমণাত্মক নয়।


গ্রাউন্ড প্যাঙ্গোলিনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Smutsia Temminckii
Smutsia Temminckii
বুনো আফ্রিকার অধিবাসী এই প্যাঙ্গোলিনের সারা দেহ শক্ত আইশ দিয়ে চারপাশ আটকানো। আক্রমণের আশঙ্কা করলেই এরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়ে বলের মতো গোলাকার আকার ধারণ করে। দুই পায়ে চলাফেরা করতে পারলেও সাধারণত খাবার খোঁজার কারণে লেজসহ চারটি পা-ই ব্যবহার করে এই অদ্ভুত সুন্দর দেহের অধিকারী প্রাণীটি।


লালঠোঁট ব্যাটফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Ogcocephalus Darwini
Ogcocephalus Darwini
আমেরিকা মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসী এই মাছটিকে প্রথম দেখাতে মনে হবে কোনো রাগী চেহারার মহিলা ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মেখে বসে আছেন! মৎস্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হয়েও সাঁতার কাটতে অনভ্যস্ত এই প্রাণী সাধারণত সাগরের তলদেশে হেঁটে বেড়ায় এবং ছোটখাট চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ খায়।


ম্যান্টিস চিংড়িঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Stomatopoda
Stomatopoda
পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ম্যান্টিস চিংড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সমুদ্রের আনাচেকানাচে। স্টোমাটোপোডা গোত্রের এই চিংড়িগুলোর অসাধারণ কিছু দাঁড়াও রয়েছে যার সাহায্যে শিকারকে সহজেই ফুটো করে ফেলতে পারে। এমনকি বড় প্রজাতির চিংড়িগুলোও মাত্র এক গুঁতোতেই অ্যাকুয়ারিয়ামের কাঁচ ভেঙে ফেলতে পারে!


গোলাপী আরমাডিলোঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Chlamyphorus Truncates
Chlamyphorus Truncates
১৮২৫ সালে আর্জেন্টিনায় আবিষ্কার হওয়া সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রজাতির এই আরমাডিলোর আকার মাত্র সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ইঞ্চি। পিঠের শক্ত আবরণ দ্বারা বেষ্টিত এই স্তন্যপায়ীর প্রধান খাদ্য পিঁপড়া এবং লার্ভা।


সিংহকেশর জেলিফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Cyanea Capillata
Cyanea Capillata
জেলিফিশ প্রজাতিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই প্রাণীটি জায়ান্ট জেলিফিশ এবং হেয়ার জেলিফিশ নামেও বেশ পরিচিত। আর্কটিক, উত্তর আটলান্টিকসহ সুমেরুর কাছাকাছি শীতল পানিতে এদের দেখা মেলে। ১৮৭০ সালে ম্যাসাচুসেটসের উপসাগরে সবচেয়ে বড় জেলিফিশের খোঁজ পাওয়া যায় যার দেহ ছিল সাড়ে সাত ফুট এবং শুড়গুলোও প্রায় ১২০ ফুট লম্বা!


বক্সার কাঁকড়াঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Lybia
Lybia
লিবিয়া গণের ১০টি প্রজাতি এই ক্ষুদ্রাকৃতির কাঁকড়াদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের আকৃতিবিশিষ্ট এই কাঁকড়াগুলো পরিচিত বক্সিং কাঁকড়া, বক্সার কাঁকড়া এবং পম-পম কাঁকড়া হিসেবে। এরা মূলত সামুদ্রিক অ্যানিমোনদের সাথে মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এরা নিজেদের দাঁড়ায় অ্যানিমোনগুলোকে রেখে বিপদ থেকে রক্ষা করে, অপরদিকে অ্যানিমোনগুলো এর বিনিময়ে খাবার সংগ্রহ করে।


নীল ড্রাগনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Glaucus Atlanticus
Glaucus Atlanticus
খোলস ছাড়া এই মলাস্কা পর্বের প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা কাল্পনিক ড্রাগনের মতোই। আকারে মাত্র ১.২ ইঞ্চি এই আটলান্টিকের অধিবাসী হাত দিয়ে ধরতে গেলেই ভয়াবহ যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হবে, কারণ তার আগেই বিষাক্ত ছোট কাঁটা আপনার হাতে ঢুকে গিয়েছে যে।


ডুগংঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Dugong Dugon
Dugong Dugon
পানির নিচে বাস করা স্তন্যপায়ী এবং একই সাথে তৃণভোজী, এরকম প্রাণী পৃথিবীতে আর একটি প্রজাতিই টিকে আছে আর তা হলো ডুগং। দুঃখজনকভাবে, তেল এবং মাংসের জন্য অতিরিক্ত শিকার করার কারণে এই সুন্দর প্রাণীটি প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।


নগ্ন ছুঁচোঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Heterocephalus Glaber
Heterocephalus Glaber
পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই নগ্ন ছুঁচোগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মুখের সামনের বড় দুটো দাঁত। মাটির নিচ দিয়ে চলার সময় তাদের এই দাঁত একইসাথে মাটি কাটতে সাহায্য করে এবং মুখের ভিতর মাটি চলে যেতে প্রতিহত করে। এগুলোকে স্যান্ড-পাপি নামেও ডাকা হয়। এদের দেহের বিশেষ কোষের জন্য এদের কখনো ক্যান্সার হয় না। এছাড়াও অসাধারণ ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা এবং কম অক্সিজেনেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই নগ্ন ছুঁচোগুলোর।


পান্ডা পিঁপড়াঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Mutillidae
Mutillidae
পিঁপড়া নামে পরিচিত হলেও এই পতঙ্গগুলো মূলত একধরণের বোলতা। আর নামের আগে পান্ডা বসানোর কারণ হলো এদের গায়ের লোমের রঙ। সাধারণত কালো-কমলা হলেও পান্ডার মতো সাদা-কালো রঙের অসাধারণ সম্মিলনও দেখা যায়। বোলতার কামড় খাওয়া প্রবাদের সাথে এদের ক্ষমতা নিখুঁতভাবে মিলে যায়। এদের বিষাক্ত কাঁটার আঘাতে গরু পর্যন্তও মারা যেতে পারে।


নেকড়ে মাছঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Anarhichas Lupus
Anarhichas Lupus
নেকড়ে মাছের ভয়াবহ দাঁত খিঁচানো মুখ দেখলে যে কেউই ভয় পেতে পারে। প্রায় সাড়ে তিন ফুট লম্বা এবং ৯০ কেজি ওজনের বিশাল আকারের মাছ প্রধানত পাওয়া যায় সুরিনামের উপকূলীয় অঞ্চলে। ছোট প্রাণী এবং অন্যান্য মাছ এদের প্রধান খাদ্য।


কাঁটাযুক্ত ড্রাগনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Moloch Horridus
Moloch Horridus
অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অধিবাসী মলোচ গণের একমাত্র প্রাণী পরিচিত কাঁটাযুক্ত গিরগিটি, কাঁটাযুক্ত শয়তান এমনকি পর্বতের শয়তান নামেও। ক্যামেলিয়নদের মতো এরাও নিজেদের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে, তবে মরুভূমিতে থাকার কারণে সাধারণত এদের বাদামী বর্ণই চোখে পড়ে। প্রায় আট ইঞ্চি লম্বার এই প্রাণীর সারা দেহ ঢাকা অসংখ্য শক্ত কাঁটা দিয়ে, যার কারণে অন্যান্য শিকারি প্রাণীরা সাধারণত এদের ঘাঁটাতে আসে না। এদের আরও একটি সুবিধা হলো এরা নিজেদের দেহের যেকোনো অঙ্গ দিয়েই পানি শুষে নিতে পারে যা এদেরকে মরুভূমিতে টিকে থাকতে বেশ ভালোরকম সহায়তাই করে।


ব্লব ফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Psychrolutes Marcidus
Psychrolutes Marcidus
পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত চেহারার প্রাণী নামে পরিচিত এই ব্লবফিশকে বলা যায় শুধুই জেলাটিনের একটু দলা। এদের এই জেলাটিনসমৃদ্ধ কোষ পানি থেকেও হালকা, এ কারণে এদের সাঁতার কাটতে কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং তাসমানিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এদের দেখা মিলবে খুব সহজেই।


আয়ে-আয়েঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Daubentonia Madagascariensis
Daubentonia Madagascariensis
Daubentoniidae পরিবারের একমাত্র টিকে থাকা প্রজাতি আয়ে-আয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী নিশাচর প্রাণীও বটে। অদ্ভুত চেহারার এই লেমুরকে মাদাগাস্কারের সামান্য কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। এদের নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কারও প্রচলিত রয়েছে, যেমন আয়ে-আয়েদেরকে খারাপ বলে মনে করা হয় এবং দেখামাত্র হত্যা করার মতো রীতিও চালু রয়েছে। এ কারণে এর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় IUCN আয়ে-আয়েকে বিলুপ্তপায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Sunday, June 11, 2017

জীব প্রযুক্তি এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering)।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering), বাংলায় জিনতত্ত্ব প্রকৌশল। বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে এবং কৃষিতে সমানভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাবহারিত হচ্ছে। যে বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজি ব্যাবহার করে জীবের বৈশিষ্ট পরিবর্তন করা হয়, তাকে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জেনেটিক মডিফিকেশন (Modification) বলে।

আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবের ক্ষুদ্রতম একক হলো কোষ (Cell)। কোষের প্রাণকেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস (Nucleus) বলা হয়। এই নিউক্লিয়াসের ভিতরে বিশেষ কিছু পেঁচানো বস্তু থাকে, যাকে বলা হয় ক্রোমোজোম (Chromosome)। ক্রোমোজোম জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে। ক্রোমোজোমের মধ্যে আবার চেইনের মত পেঁচানোকিছু বস্তু থাকে যাকে ডিএনএ বলা (DNA-Deoxyribo Nucleic Acid) হয়।

এই ডিএনএ অনেক অংশে ভাগ করা থাকে। এর এক একটি নির্দিষ্ট অংশকে বলে জীন (Gene)। মূলতঃ ক্রোমোজোমের অভ্যন্তরে অবস্থিত জীনই জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায় যে, মানুষের শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম রয়েছে এবং বিড়ালের রয়েছে ৩৪ জোড়া। আবার মশার আছে ৬ জোড়া। এদের মধ্যে একজোড়া ক্রোমোজোম বংশগতির বাহক। আমাদের শরীরে প্রায় ৩,০০,০০০ জীন রয়েছে। এক সেট পূর্ণাঙ্গ জীনকে জীনোম (Genome) বলা হয়।

মূল কথা দাড়ায় এই যে, বায়োটেকনোলজির (Bio-Technology) মাধ্যমে কোন প্রাণীর জিনোমকে (Genome) নিজের সুবিধানুযায়ী সাজিয়ে নেয়া বা মডিফাই (Modify) করাকেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering) বা জেনেটিক মডিফিকেশন (Genetic Modification) বলে।

জিনোম হলো কোন জীবের বংশগত বৈশি‌ষ্ট্যের তথ্য। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে কখনও কখনও প্রাণীর বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত ডিএনএ (DNA) সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে অথবা প্রাণীদেহের বাইরে প্রস্তুতকৃত ডিএনএ প্রাণীদেহে প্রবেশ করানোর মাধ্যমে প্রাণীর জেনেটিক গঠনের পরিবর্তন ঘটানো হয়।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল (Genetic Material) এর নতুন সমাবেশ তৈরির জন্য Recombinant Nucleic Acid (DNA or RNA) পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল এর নতুন সমাবেশ পরোক্ষভাবে ভেক্টর সিস্টেম প্রয়োগ করে অথবা প্রত্যক্ষভাবে Micro-Injection, Macro-Injection এবং Micro-Encapsulation প্রদ্ধতি প্রয়োগ করে তৈরি করা হয়।

১৯৫১ সালে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন "Jack Williamson" তার একটি সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস "Dragon’s Island" এ। তার এক বছর আগে DNA যে বংশগতির বাহক তা নিশ্চিত করেন "Alfred Hershey" and "Martha Chase"

"Herbert Boyer" এবং "Robert Swanson" ১৯৭৬ সালে বিশ্বের প্রথম জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি “Genetech” প্রতিষ্ঠা করেন। এর এক বছর পর “Genetech” "E.coli" ব্যাকটেরিয়া থেকে মানব প্রোটিন "Somatostatin" উৎপাদন করে যা হিউম্যান ইনসুলিন (Human Insulin) হিসেবে সুপরিচিত। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাহায্যে চীন ভাইরাস প্রতিরোধকারী তামাক গাছের প্রবর্তনের মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদকে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক রূপ দান করেন।

চিকিৎসা, গবেষণা, শিল্প এবং কৃষিসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ইন্সুলিন (Insulin), হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (Human Grooth Hormun), Follistim (বন্ধ্যত্ব চিকিৎসারজন্য), হিউম্যান অ্যালবুমিন (Human Albumin), ভ্যাক্সিন (Vaxin) এবং অনেক প্রকারের ঔষধ উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও Genetically Modified ইঁদুর দিয়ে মানবদেহের বিভিন্ন রোগসংক্রান্ত গবেষণা চালানো হয়। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিস্থাপন সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য Genetically Modified শুকর শাবক উৎপাদন করা হয়েছে।

প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের কাছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি হাতিয়ার। গবেষণার জন্য বিভিন্ন প্রাণীর জীন ও অন্যান্য জেনেটিক তথ্য Genetically Modified ব্যাক্টেরিয়ার (Bacteria) মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়াও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে জীনের বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপ সম্পর্কে গবেষণা করা হয়।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আণুবিক্ষণিক (Microscopic) জীব যেমন- ব্যাক্টেরিয়া (Bactaria), ইস্ট (East), অথবা ইনসেক্টম্যামালিয়ান সেল (Insectmemarial Cell) ইত্যাদি থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রোটিন (Protin) উৎপাদন করা যায়। Genetically Modified Crops এবং Genetically Modified Organism বা GMO হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি বিতর্কের বিষয়। তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং মূলতঃ কৃষিকে ঘিরেই বেশি পরিচালিত হচ্ছে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে কৃষিতে Genetically Modified Crops উৎপাদনের লক্ষ্য হচ্ছে —


  1.  পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের হুমকি থেকে শস্যকে রক্ষা করা।
  2.  শস্য থেকে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান উৎপাদন করা।
  3.  শস্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা।
  4.  শস্যের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
  5.  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ইত্যাদি ।