Showing posts with label প্রকৃ‌তি ও প‌রি‌বেশ. Show all posts
Showing posts with label প্রকৃ‌তি ও প‌রি‌বেশ. Show all posts

Tuesday, October 10, 2017

টিকটিকির লেজ পুনঃসৃষ্টির কৌশল আবিষ্কৃত।

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা টিকটিকির লেজের পুনরায় সৃষ্টির সাথে জড়িত কোষগুলো সনাক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মানবদেহের স্নায়ুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা পুনঃরুৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবনে অগ্রগতির আশা করছেন। অটোটমি (Autotomy) নামক একটি প্রক্রিয়ায় কিছু টিকটিকিকে লেজ খসিয়ে ফেলার সক্ষমতা অর্জন করতে দেখা যায়। শিকারীর কাছ থেকে হুমকীর সম্মুখীন হলেই এ ঘটনাটি ঘটানো হয়। খসে পড়া লেজটি কিছুক্ষণ নড়তে থাকে, ফলে শিকারীর দৃষ্টি বিচ্যুত হয় এবং এই ফাঁকে টিকটিকি নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

এটি সুনির্দিষ্টভাবে টিকটিকি বা গিরগিটির একটি বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু প্রজাতির স্যালম্যান্ডারও এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। লেজ খসানোর পর হতে গিরগিটির লেজটি পুরনায় বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয় এবং নতুন করে গজিয়ে যায়। গেকো নামক গিরগিটির ক্ষেত্রে এটি পুনরায় জন্মাতে ৩০ দিন সময় লাগে। অন্যান্য টিকটিকির ক্ষেত্রে সময় লাগে আরো কম।

বিজ্ঞানীরা, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িতরা এই ক্ষেত্রে যে বিষয়ে আগ্রহবোধ করেছেন তা হলো স্তন্যপায়ীর মতো টিকটিকির স্নায়ুরজ্জু পিঠেই শেষ হয়ে যায় না বরং লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তার মানে হলো যখন টিকটিকি লেজ পুনর্জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু করে তখন সেই সাথে স্নায়ুরজ্জুও বৃদ্ধি পেতে হয়। ধুর্ত এই সরীসৃপগুলো কীভাবে স্নায়ুরজ্জু পুনরোৎপাদন করে, বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে সেই প্রক্রিয়াটি জানতে আগ্রহী।

অধ্যাপক ম্যাথু ভিকারিয়াস এই প্রসঙ্গটি এভাবে ব্যাখ্যা করেন,
"আমরা জানি গেকোর স্নায়ুরজ্জুর পুনোরুৎপাদন ঘটে। তবে আমরা জানতাম না কোন কোষগুলো এর পেছনে অবদান রাখে। মানুষ স্নায়বিক আঘাত নিয়ন্ত্রনে খুবই আনাড়ি। তাই আমি আশা করছি, গেকোর কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু শিখতে পারব যার মাধ্যমে মানুষের স্নায়ুরজ্জুর আঘাত নিজে নিজে নিরাময় করা যাবে।"
বিজ্ঞানীরা শিকারীর মতো আচরণ অণুকরণ করে গবেষণাগারে একটি লেপার্ড গেকোর লেজটি খসিয়ে দেন এবং কোষীয় পর্যায় কী ঘটনা ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা দেখতে পান গেকোর স্নায়ুরজ্জুতে রেডিয়াল গ্লিয়া নামক এক বিশেষ ধরনের স্টেম কোষ থাকে। এই কোষগুলো সব মেরুদন্ডী প্রানীর মধ্যেই পাওয়া যায় এবং প্রানীর প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে। কিন্তু এরপরই নিশ্চুপ হয়ে যায়।

তবে যখন টিকটিকির লেজ খসে যায় তখন অন্য কোনো কিছুর প্রণোদনায় এরা আর নিশ্চুপ থাকে না বরং সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা নতুন কিছু প্রোটিন তৈরি করে এবং দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। ফল এক পর্যায়ে গিয়ে স্নায়ু রজ্জু মেরামত হয়ে যায়। শুধু যে লেজের স্নায়ুতন্ত্রই এরা মেরামত করতে পারে তা নয়, বরং অন্যান্য অংশের এমনটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত হলেও টিকটিকি তা মেরামত করতে পারে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা বেশী উৎসাহবোধ করছেন।

Tuesday, September 5, 2017

উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের প্রথম আগমন বলে ধারনা বদ্ধমূল হচ্ছে।

নতুন গবেষাণায় দেখা গেছে আমাদের এই গ্রহে প্রাণের উদ্ভব শুরু হয়েছে ছোট উষ্ণ পুকুরজাতীয় জলাধারগুলোতে উপর্যুপরি উল্কাপতনের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে সৃষ্ট রাসায়নিক চেইন বিক্রিয়ায় পৃথিবীর প্রথম জেনেটিক কোডটুকু তৈরি হয়।
আদিপ্রাণ বা প্রাণের প্রথম উদ্ভব হয়েছে পানি থেকেই।
এই ওয়ার্ম পন্ড বা উষ্ণ পুকুর হাইপোথিসিস যদিও নতুন নয় তবে সাম্প্রতিক নতুন তথ্য এবং গণনা এই ধারনার পালে হাওয়া যুগিয়েছে এবং এর সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর এস্ট্রোনমির যৌথ গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।

গবেষকদলের সদস্যদের একজন বেন কে. ডি. পিয়ার্স বলেন,
“ইতিপূর্বে কেউই এধরনের গণনা করে দেখে নি। এটা বড়সড় সূচনা এবং খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক।”
এই গণনায় RNA তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হয়েছে। এটি জীবের জীনগত বৈশিষ্ট্য ধারনের এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবেও কাজ করার ভিত্তিমূলক অণু। উক্লাপিন্ডের আঘাতে প্রয়োজনীয় জৈব যৌগের উপস্থিতি তৈরি হওয়ার মাধ্যমে এই অণু তৈরি হতে পারে? নিশ্চিতভাবেই- জানিয়েছে নতুন এই গবেষণার পেছনে থাকা দলটি। যথাযথ বৃষ্টিপাত এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে এই বস্তুগুলো তৈরি হয়। এই RNA পরবর্তীতে আরো জটিকালার ধারন করতে পারে এবং DNA তৈরি করতে পারে।
পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।
তাঁদের গবেষনায় প্রাপ্ত তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গবেষকদলটি জ্যোতির্পদাবিদ্যা, ভূতত্ত্ব, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তথ্য-উপাত্তকেও কাজে লাগায়। গবেষণার সাথে জড়িত অপর এক সদস্য র্যালফ পুড্রিটজ বলেন,
“বিভিন্ন ক্ষেত্রে এতধরনের ইনপুট রয়েছে এবং এদের প্রত্যেকে একই ফলাফল নির্দেশ করছে এটা বিষ্ময়কর।”
নতুন গবেষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের সময়কাল ৩৭০ কোটি বছর হতে ৪৫০ কোটি বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের গণনাকৃত সময়ের তুলনায় এটি আরো প্রাচীন তবে এখনো এর নিশ্চয়তা দেওয়া যায় নি। একটি শিলার নমুনার গবেষণা হতে দেখা যায় সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী জীবের উদ্ভব হয়েছে ৪০০ কোটি বছর আগে।

Wednesday, April 12, 2017

গোপন রহস্যে ভরপুর- মাকড়শার তৈরি মরণ ফাঁদ!

জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে আমরা যতই পণ্ডিত হই না কেন, অবাক করা এই বিস্ময়কর পৃথিবীর অজানা জট খুলতে খুলতেই কিন্তু আমাদের জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। সত্যিই এ ধরণী বড়ই অদ্ভুত। অদ্ভুত চারপাশের প্রকৃতি, যার ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো আর তার সৃষ্টির খেলা হয়তবা আমরা অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি বেশি জানতে পারব। এমনও হতে পারে যে তার মাঝেই এমন অনেক কিছু থেকে যাবে অজানা রহস্যের বেড়াজালে।

জালের কথা এসেছে যখন, আসুন জেনে আসি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর জীবের তৈরি জালের শক্তি সম্পর্কে। এ নিয়ে কত শত অজানা তথ্যে আরও অবাক হতে ক্ষতি কী বলুন?
ইস্পাতের চেয়েও শক্ত পোক্ত মাকড়শার তৈরি এই জাল।
প্রকৃতির খুঁটিনাটি বের করা বিজ্ঞানের কাজ, আর বিজ্ঞানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করে প্রকৌশলবিদ্যা। আমার মতো উৎসুক মনের অধিকারী যারা, তারা নিশ্চয়ই প্রকৌশল বিদ্যার দ্বারস্থ না হয়ে টোকা দিয়ে বসেন অবাক করার মতো বস্তুর উপরেই। সে যাই হোক। মানবসৃষ্ট জাল সম্পর্কে বেশি কিছু বলার মতো নেই। আমার দৃষ্টি আরেকটি প্রাণীর সৃষ্ট জালের উপরেই। কী? বুঝতে পারছেন নি এখনো? আমি মাকড়শার জালের কথাই বলছি।
মাকড়শার অদ্ভুতুড়ে জাল।
কোনো এক অজানা কারণে আমি মাকড়শার উপর চরম ক্ষ্যাপা। কারণ হলো, এটা আমাকে প্রচন্ড ভয় দেখায়। আসলে এটা ভয় দেখায় না, আমি নিজ থেকেই মাকড়শা ফোবিয়াগ্রস্থ। জানি না, হয়তো আমার মতো এমনটা আরও অনেকেই থাকতে পারেন। কেমন কিলবিল করা আটখানা পা! যতই সেটা আকারে ছোট হোক না কেন, ভয়টা যেন কোথা থেকেই উদয় হয় একে দেখেই।

অনেক ছোট্ট বেলায় কোনো এক বিকেলে, দাদুবাড়ির উঠোনে হঠাৎ করেই খেলার সাথী চিৎকার জুড়ে দিলো যে, আমার ঘাড়ে নাকি বড়ই গাছের ডগা থেকে ইয়া বড় এক মাকড়শা এসে বসেছে। সত্যিই কিন্তু বসেছিল। তারপর তো আমার ভয়ে প্রাণান্তকর অবস্থা! যেই শুনেছি আট পাওয়ালা সেই প্রাণীটি আমার ঘাড়ে, আমার তো তখন নড়াচড়া বন্ধ। বাকিটা ইতিহাস। কেবল ভয়ে আধমরা হওয়ার স্মৃতিটুকুনই স্মরণ আছে। তারপর কী হয়েছিল তা আর মনে নেই।
জাল বুননের কারিগর মাকড়শা।
এই ভয় থেকেই হয়তো উৎসুক মন মাকড়শা ও তার জাল নিয়ে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আজ আপনাদের সাথে তেমন সব তথ্যই শেয়ার করবো।

আপনি কি জানেন, মাকড়শার জাল ইস্পাতের তারের চেয়েও বেশি শক্ত হয়ে থাকে। জলের উপর যারা স্কেটিং করে থাকেন তাদের মাঝে স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় যে, এক স্কেটার আরেক স্কেটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের গতি বাড়িয়ে-কমিয়ে চলতে থাকেন। যারা বিশেষ পটু তারা আবার জলের উপরেই অনেক কারসাজিও করে দেখান বটে। মাকড়শারাও কিন্তু ঠিক ঐ রকম কাজটাই করে থাকে। তারা টোকা দেয়, এমনকি ঢেউ তোলে জালের সুতোয়। জাল সে যেখানেই তৈরি করুক না কেন, আসল উদ্দেশ্য তার শিকার আক্রমণ। ঘাস ফড়িং, প্রজাপতি ইত্যাদি পতঙ্গ মাকড়শার প্রধান শিকার।
দুরন্ত উচ্চিংড়ে।
আশেপাশে কোনো মাকড়শার জাল খেয়াল করলে দেখবেন, জালে এসব ছোট্ট পোকাই হয়তোবা আটকে পড়ে রয়েছে। একটা বোকা উচ্চিংড়ে হঠাৎ লাফিয়ে জালের উপর ল্যান্ড করলেই জাল তার বাহাদুরি খেলা দেখাতে শুরু করে দেয়। কেন ছোট্ট পোকা এই জাল থেকে ছুটতে পারে না, এমন চিন্তা নিশ্চয়ই আমার মতো আপনার মাথাতেও দোল দিয়ে যায়।
মাকড়শার জালে শিকার সুন্দরী প্রজাপতি।
প্রথম কথা হলো, জালের সুতোয় মাখানো থাকে আঠা। আটকে পড়া পোকা জালের আঠা থেকে ছুটে যেতে ঝাপটাঝাপটি করতে শুরু করে। তবে সব ক্ষেত্রেই বিশেষ একটা লাভ হয় না আটকে পড়া শিকারের। উচ্চিংড়ে বা ফড়িং জাতীয় পোকাদের গায়ে, পায়ে, ডানায় বেশ জোর থাকে। কখনও কখনও হয়তোবা কপাল ভালো থাকলে জাল ছিঁড়ে রেহাই পেয়েও যায়। কিন্তু সবসময় তা ঘটে না।
মাকড়শার লাঞ্চ চলছে তার শিকার উচ্চিংড়ে দিয়ে।
মাকড়শার জালের সুতো এমনই এক মহা আশ্চর্যের জিনিস বলা চলে। সমান পুরুত্বের ইস্পাতের তারের চেয়েও মাকড়শার জাল কিন্তু অধিক পরিমানে শক্ত, মানে ছিঁড়তে বেশি শক্তি লাগে। সেই সাথে আরও অবাক করার বিষয় হলো এই জাল যতই টানাটানি করা হবে, তা ততই বাড়তেই থাকে। আর ঠিক এই গুণের দাপটেই কিন্তু উচ্চিংড়ে বা ফড়িং তার ডানার জারিজুরি খুব বেশি একটা খাটাতে পারে না। এসব কিন্তু আমার কথা নয়, নানা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফল, যা আমি জেনে শুধুমাত্র শেয়ার করার অধিকারের দাবিদার মাত্র।
মাকড়শার জালে আটকে পড়া প্রজাপতি।
শিকার যতই পা ছুড়ুক, জালের সুতোর টানে তা আরও বেশি পোক্ত হয়ে শিকারকে আটকিয়ে রাখে। উল্টো দাপাদাপি করতে করতে একসময় পোকাগুলোয় হাঁপিয়ে উঠে। এমন আরও অনেক গুণ রয়েছে মাকড়শার জালের সুতোয়। আর সে কারণেই পৃথিবী জুড়ে বিজ্ঞানীরা উঠে পড়ে লেগেছেন কারখানায় কী করে একই ফর্মুলায় এই জালের সুতো তৈরি করা যায়। সে নিয়ে বিজ্ঞানীরা হয়ে উঠেছেন মহাব্যস্ত। সেই পথ খুঁজতে ব্যয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

যে কথা হচ্ছিল, জাল বেয়ে আসা শিকারের কম্পন থেকেই কিন্তু মাকড়শারা ‘খবর পড়ে’। তারা জালের কম্পন থেকেই বুঝতে পারে সেটা বাতাসের দোলা, নাকি বন্দী পোকার ছটফটানি, নাকি আপনার-আমার মতন কেউ কাঠি দিয়ে জাল নাড়িয়ে দেখতে চাইছে মাকড়শারা বুদ্ধিমান নাকি বোকা প্রকৃতির।
মাকড়শার শিকার আটকে রয়েছে তারই পাতা জালে।
আবার এখানে অন্য ব্যাপারও আছে বৈকি। কোনো পুরুষ মাকড়শা যদি কোনো স্ত্রী মাকড়শার সাথে ভাব করতে চায়, তবে জালের ধারে এসে তার ভাষায় একটা মিহি টোকা দিয়ে যায়। ঠিক তখন জালের সুতোয় ঢেউ খেলে যায়। স্ত্রী মাকড়শা সে ভাষা বুঝে নিয়ে উল্টো তার দিক থেকেও পাঠিয়ে দেয় দোল তরঙ্গ। তারা এই ঢেউ থেকেই পড়ে নেয় তাদের মনের কথোপকথন। একেকটা মাকড়শা তাদের নিজ নিজ ভাষায় জালে টোকা দেয়। অন্য কোনো প্রজাতির সে ভাষা বুঝতে পারার কথা নয়। কিন্তু এর মাঝেই ঘটনার ক্লাইম্যাক্স তৈরি হয়ে যায় অন্যভাবে। ঠিক সিনেমার ভিলেনদের মতোই উপস্থিত হয় মাঝে মাঝে ‘পোর্শিয়া’ নামের অন্য এক প্রজাতির মাকড়শা।
অতি চালাক ভিলেন মাকড়শা পোর্শিয়া।
এই পোর্শিয়া প্রজাতির মাকড়শারা অন্য বেশ কিছু মাকড়শার জালের ভাষা রপ্ত করে নিয়েছে। তার মতলব কিন্তু ভিন্ন। সে শুধু অন্যের ভাষা বুঝতেই পারে না কেবল, তা নকল করে হুবহু প্রয়োগও করতে পারে। সুযোগ বুঝে কোনো মাকড়শার জালের সুতোয় ঠিক তার ভাষার পাল্টা প্রতিক্রিয়াতেই টোকা দেয়। তারপর ধোঁকা দিয়ে কাছে টেনে নিয়ে আসে সেই জালবাসি বোকা মাকড়শাটিকে। তারপরেই বেজে যায় তার বিদায় ঘণ্টা। বোকা মাকড়শাটিকে কাবু করতে খুব বেশি একটা সময় লাগে না পোর্শিয়া মাকড়শার। কাবু করা শেষেই মনের আনন্দে সেরে নেয় তার লাঞ্চ বা ডিনার।
পোর্শিয়া মাকড়শার চোখের গভীর চাহনি।
বাঁচা- মরা প্রকৃতির খেলা। কে কতদিন বেঁচে থাকবে তা কেউ আগে থেকে বলে দিতে পারে না। প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই এই ভাঙা গড়ার খেলা চালিয়ে যায় নিজ মহিমায়। এ তো গেলো মাকড়শাকে নিয়ে কিছু অজানা তথ্য। পরবর্তীতে এমন আরও ভিন্ন কিছু নিয়ে মজার মজার তথ্যের ডালি সাজিয়ে আসার আশা রইল অন্য মাত্রায়।

Saturday, January 28, 2017

সূর্য যেভাবে পৃথিবীর সকল জীবকে বাঁচিয়ে রাখছে...

বেঁচে থাকতে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে করা প্রত্যেকটি কাজের পেছনে আছে সূর্যের হাত। দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো না কোনো এক দিক থেকে সূর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাবেই।আমাদের জীবন ধারণ করতে সূর্য কেমন ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করা হবে এখানে।

আমরা এখনো জানি না পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের কোনো স্থানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা। তবে এটা জানি, যদি বহির্বিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে থাকে তাহলে তা অবশ্যই হবে কোনো নক্ষত্রের কাছাকাছি কোনো স্থানে। অন্তত এটা বলা যায়, পৃথিবীতে যে ধরনের প্রাণ আছে সে ধরনের প্রাণ যদি বাইরের বিশ্বে থাকে তাহলে তারা তাদের নক্ষত্রের কাছে থাকবে। কারণ এরকম প্রাণের টিকে থাকতে হলে নিকটবর্তী নক্ষত্র থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে হবে। শক্তি ছাড়া কোনো প্রাণ টিকে থাকতে পারে না, শক্তি ছাড়া কোনো সভ্যতার বিকাশ হতে পারে না।

পৃথিবী যেমন সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে অনেকটা তেমনই কাছে অবস্থান করবে প্রাণ ধারণকারী সেই গ্রহটি। কাছাকাছি বলতে একদম নিকটে বোঝানো হয়নি, আপেক্ষিকভাবে কাছাকাছি থাকবে অর্থাৎ প্রাণবান্ধব এলাকার মাঝে অবস্থান করবে। খুব কাছেও নয়, যার কারণে অধিক উত্তাপে পানি বাষ্প হয়ে উবে যাবে, আবার খুব দূরেও নয় যার কারণে অধিক শীতলতায় পানি সর্বদা বরফ হয়ে থাকবে। এরকম এলাকাই হচ্ছে প্রাণ ধারণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।

প্রাণবান্ধব অঞ্চলটি দূরবর্তী কক্ষপথেও থাকতে পারে, আবার কাছের কক্ষপথেও হতে পারে। যেমন R136a1 নামে একটি নক্ষত্র আছে, যা আকারে বেশ বড়। নক্ষত্রের প্রাণ ধারণকারী গ্রহটির অবস্থান হবে এর থেকে দূরে, কারণ বড় বলে তার উত্তাপ বেশি হবে, তাই এমন দূরত্বে থাকতে হবে যেন উত্তাপে প্রাণ কোনো হুমকির মুখে না পড়ে। আবার সূর্যের চেয়েও ছোট কোনো নক্ষত্রের বেলায় প্রাণ ধারণকারী গ্রহ থাকবে নক্ষত্রের একদম কাছে, কারণ এর চেয়ে বেশি দূরে চলে গেলে গ্রহের পরিবেশ হবে অত্যধিক শীতল।
নক্ষত্রের আকার অনুসারে প্রাণ বান্ধব অঞ্চলের অবস্থান (গাঢ় আকাশী রঙ)
এবার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নে প্রবেশ করা যাক। প্রাণ ধারণকারী গ্রহকে কেন নক্ষত্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে হবে? কারণ প্রত্যেক প্রাণেরই টিকে থাকার জন্য শক্তি দরকার। আর শক্তির চমৎকার ও সহজলভ্য উৎস হচ্ছে নক্ষত্র। কোনো প্রকার কর্মযজ্ঞ ও অর্থ বিনিয়োগ না করেই নক্ষত্র বছরের পর বছর ধরে শক্তি সরবরাহ করে যায়। ফ্রি ফ্রি পাওয়া উন্নতমানের সুবিধা, এটার সদ্ব্যবহার করাই বেশি যৌক্তিক।

পৃথিবীর কথা বিবেচনা করি। পৃথিবীতে উদ্ভিদেরা সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এবং তা সরবরাহ করে সমগ্র জীবজগতকে। উদ্ভিদ সূর্যালোক থেকে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে। খাদ্য তৈরির জন্য অবশ্য সূর্যের আলোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইডেরও প্রয়োজন হয়। এদের পাশাপাশি মাটির নিচ থেকে পানি ও খনিজেরও দরকার হয়। মূল শক্তিটুকু সূর্যের আলো থেকেই সংগ্রহ করে এবং এর সাহায্যেই স্যুগার বা চিনি তৈরি করে। চিনির শক্তিকে ভেঙেই সকল প্রাণী ও উদ্ভিদেরা চলাফেরা ও নড়াচড়া করে।

পাতার মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো হাজার হাজার সোলার প্যানেলের সমন্বয়ে তৈরি বিশাল এক ফ্যাক্টরির মতো। বাড়তি উপযোগ পাবার জন্য পাতাগুলো চ্যাপ্টা হয়ে থাকে। চ্যাপ্টা হলে এর ক্ষেত্রফলের পরিমাণ বাড়ে, ক্ষেত্রফল বাড়লে তাতে অধিক পরিমাণ সূর্যালোক আপতিত হয়। ফলে অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপন্ন হয়। বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে, ভূগর্ভ থেকে পানি ও খনিজ নিয়ে সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে যে রেসিপির প্রক্রিয়া করা হয় তার চূড়ান্ত উৎপাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের চিনি। পাতায় উৎপন্ন হওয়া বিভিন্ন ধরনের চিনি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলে যায় উদ্ভিদের সমগ্র দেহে। দেহের বিভিন্ন অংশ আবার চিনি থেকে স্টার্চ বা শ্বেতসার তৈরি করে। শক্তি হিসেবে এটি আবার চিনি থেকেও বেশি সুবিধাজনক। উদ্ভিদের দেহের এই শ্বেতসার ও চিনি থেকে তৈরি হওয়া শক্তি ব্যবহার করেই বেঁচে থাকে দুনিয়ার সকল প্রাণী।
সূর্যালোকের শক্তির সাহায্যে বেঁচে থাকে উদ্ভিদ, আর উদ্ভিদের পাতায় উৎপন্ন হওয়া শক্তি ব্যবহার করে বেঁচে থাকে তাবৎ প্রাণিজগৎ।
তৃণভোজী (হার্বিভোরাস) কোনো প্রাণী, যেমন হরিণ বা খরগোশ, যখন কোনো উদ্ভিদকে খায় তখন উদ্ভিদের শক্তিগুলোও তাদের দেহে যায়। এসব প্রাণীরা তাদের দেহ ও পেশি গঠন করতে শক্তিগুলো কাজে লাগায়। দেহের ও পেশির মাঝে শক্তিগুলো দরকার হয় মূলত খাদ্য সংগ্রহ করা, সঙ্গীর সাথে মিলন করা, বিপদে দৌড় দেয়া, অন্যের সাথে যুদ্ধ করা ইত্যাদি কাজে। এই শক্তিগুলোর আদি বা মূল উৎস হচ্ছে সূর্য, যা উদ্ভিদকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মাঝে এসেছে।

মাংসভোজী (কার্নিভোরাস) প্রাণীরা আবার তৃণভোজী প্রাণীদেরকে খায়। ফলে এখানেও তৃণভোজী প্রাণীর শক্তি স্থানান্তরিত হয়ে চলে আসছে মাংসভোজী প্রাণীর মাঝে। এই শক্তিও মাংসভোজী প্রাণীর দেহ ও পেশি গঠন করতে কাজে লাগে। তারাও বিবাদে, দৌড়ে, মিলনে, গাছের চরণে শক্তি ব্যয় করে। মাংসভূক প্রাণীটি যদি স্তন্যপায়ী হয়, তাহলে তার কিছুটা শক্তি শিশুর জন্য দুধ উৎপাদন করতেও চলে যায়। এখানেও শক্তির মূল উৎস হিসেবে থাকছে সূর্য। যদিও এই শক্তি বেশ কতগুলো ধাপ পার হয়ে এই অবস্থানে আসে।

অন্যান্য প্রাণী ও পরজীবীরা মাংসভোজী প্রাণীর দেহে বসবাস করে আরো পরোক্ষভাবে শক্তি সংগ্রহ করে। এখানেও পরজীবীর শক্তির মূল উৎস হচ্ছে সূর্য।
জীবন অতিক্রম করে যখন কোনোকিছু মারা যায়, হোক সেটা প্রাণী, উদ্ভিদ, মাংসভোজী, তৃণভোজী কিংবা কোনো পরজীবী- তারা মৃত্যুর পর মাটিতে বিয়োজিত হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো আবর্জনাভূক প্রাণীরা এদের দেহাবশেষ খেয়ে ফেলে। এমন ধরনের আবর্জনাভূক প্রাণীর উদাহরণ হচ্ছে গোবরে পোকা। ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকও মৃতদেহটিকে খেয়ে শেষ করে ফেলতে পারে। ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকও মূলত এক প্রকার আবর্জনাভূক। এখানেও সেই আগের কথা, শক্তির মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। এ কারণেই কম্পোস্টের স্তুপগুলো গরম হয়ে থাকে। কম্পোস্ট মূলত এক ধরনের জৈব সার। গোবর, আবর্জনা, বর্জ্য ইত্যাদি একত্র করে কোনো গর্তে ফেলে ঢেকে রাখলে কয়েকদিন পর যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তা-ই কম্পোস্ট। বছরখানেক আগে যে শক্তি উদ্ভিদের পাতায় আটকা পড়েছিল, সেটি এখন টগবগ করছে পচা কম্পোস্টের স্তূপে।
আবর্জনাভুক গুবরে পোকা।
‘মেগাপড’ নামে অস্ট্রেলীয় অঞ্চলের একটি পাখি আছে, এরা এদের ডিমে তা দেয় কম্পোস্ট স্তূপের তাপকে ব্যবহার করে। অন্যসব পাখিদের থেকে এরা একটু ব্যতিক্রম। অন্যান্য পাখিরা ডিমের উপর বসে নিজের গায়ের তাপ ব্যবহার করে ডিমে তা দেয়, কিন্তু অস্ট্রেলীয় মেগাপড পাখি তা দেবার জন্য বিচিত্র কারণে কম্পোস্টের স্তূপকে বেছে নেয়। এর জন্য তারা প্রথমে কম্পোস্টের একটি ক্ষেত্র তৈরি করে নেয় এবং পরে তার উপর ডিম পাড়ে। প্রয়োজন অনুসারে তারা তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণও করে। যখন তাপমাত্রা বাড়ানো দরকার, তখন উপর থেকে আরো কম্পোস্ট এনে যোগ করে, যখন তাপমাত্রা কমিয়ে ফেলা দরকার, তখন কিছু পরিমাণ কম্পোস্ট সরিয়ে নেয়। পাখিগুলো এখানেও কিন্তু আদতে সূর্যের শক্তিকেই ব্যবহার করছে।
অস্ট্রেলীয় মেগাপড।
আবর্জনার স্তূপ থেকে মেগাপডের ডিম সংগ্রহ করছেন একজন ব্যক্তি।
মাঝে মাঝে কিছু গাছ অনেকদিন ধরে টিকে থাকে। এই গাছগুলো বিয়োজিত হয় না বা কেউ এদের খেয়ে ফেলে না। তবে কারো খাদ্য না হলেও এরা স্তরীভূত অঙ্গারে পরিণত হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ায় স্তরের উপর স্তর জমা হয়ে বড় স্তর গঠন করে। পশ্চিম আয়ারল্যান্ড সহ অন্যান্য অঞ্চলের মানুষেরা বড় ইটের আকৃতিতে এসব অঙ্গার কেটে কেটে তুলে নিয়ে আসে। ইট আকৃতির অঙ্গারগুলো তারা শীতের দিনে ঘর গরম রাখতে ব্যবহার করে। বরফের দেশগুলোতে ঘর গরম রাখতে ঘরের ভেতরে কিছু না কিছু জ্বালাতে হয়, বাংলাদেশ বা উষ্ণ অঞ্চলীয় দেশগুলোতে এভাবে জ্বালাতে হয় না। ঘরের ভেতর ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে তাপের যে শক্তি ব্যবহার করা হয় তার মূল উৎসও সূর্য, যা হাজার হাজার বছর আগে গাছের পাতায় আটকা পড়েছিল।

এই অঙ্গারগুলো উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রভাবকের মধ্যে যদি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে থাকে, তাহলে সেগুলো কয়লায় পরিণত হয়। কয়লা অঙ্গারের চেয়ে ভালো মানের জ্বালানী। কয়লা পুড়িয়ে অধিক পরিমাণ উত্তাপ পাওয়া যায়। কয়লার এমন তাপীয় উপযোগিতার কারণেই আঠারো ও ঊনিশ শতকে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
তেল, গ্যাস ও কয়লার শক্তি আদতে সূর্যেরই শক্তি।
স্টিল মিলের উত্তপ্ত মেশিনের চালিকাশক্তি, স্টিম ইঞ্জিনের ধোঁয়া উড়ানো প্রবল বেগ, পানি কেটে জাহাজের ছুটে চলা এগুলোর সমস্ত শক্তিই আসলে আসছে সূর্য থেকে। হোক প্রত্যক্ষভাবে কিংবা হোক পরোক্ষভাবে। হতে পারে সেই শক্তি ১ হাজার বছর আগে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে কিংবা হতে পারে সেই শক্তির প্রক্রিয়াকাল ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের।

শিল্প বিপ্লবের শুরুর দিকে কিছু কিছু ইন্ডাস্ট্রি চলতো স্টিম ইঞ্জিনে। বাদ বাকি অধিকাংশ কটন মিলই চলতো পানি চালিত এক ধরনের যন্ত্রের মাধ্যমে। এই যন্ত্রকে বলা হয় ‘ওয়াটার হুইল’। এই যন্ত্রে চালিত মিল-ফ্যাক্টরিগুলো স্থাপন করা হতো তীব্র স্রোত সম্পন্ন নদীর পাশে। স্রোতের পানির মধ্যে হুইলকে বসানো হতো, এই স্রোতে হুইল ঘুরতো। এই শক্তিকে ব্যবহার করেই চলতো পুরো ফ্যাক্টরি। এখানে ইঞ্জিনের শক্তি কোথা থেকে আসছে? দেখতে সূর্যের সাথে সম্পর্কহীন মনে হলেও আসলে এখানেও শক্তি আসছে মূলত সূর্য থেকেই। কীভাবে?

চাকা বা হুইল ঘুরে পানির স্রোতে, পানির স্রোত তৈরি হয় অভিকর্ষীয় শক্তির প্রভাবে- যার মানে হচ্ছে পানিকে নীচে থেকে উপরে উঠতে হয়। কারণ নীচের পানি উপরে না গেলে উপরে পানির যে সাপ্লাই আছে তা কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যাবে। পানিগুলো উপরে উঠতে হলে অবশ্যই বাষ্পে রূপ নিয়ে বায়ুতে ভর করে উঠতে হবে। আর পানি থেকে বাষ্প তৈরি করার কাজটা করে সূর্যের তাপশক্তি। সুতরাং যে ইঞ্জিনই হোক, আর যে শক্তিই হোক- সকল শক্তির উৎসই হচ্ছে মূলত সূর্য।
ওয়াটার হুইলের শক্তিও ঘুরে ফিরে সূর্য থেকেই আসে।
কয়লার মাধ্যমে শিল্প বিপ্লব সাধিত হলে কটন মিলগুলো পানির পরিবর্তে কয়লা ব্যবহার করে ইঞ্জিন চালানো শুরু করেছিল। কয়লাও মূলত সূর্যেরই শক্তি। এখন এদের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে, এ প্রকার শক্তি তৈরি হয়েছিল মিলিয়ন বছর আগে, আর আরেক প্রকার শক্তি সঞ্চিত হয়েছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃষ্টি আকারে ঝরে পড়ে কিংবা পর্বতের চূড়া থেকে বরফ হতে গলে পড়ে। এ ধরনের শক্তিকে বলা হয় ‘বিভব শক্তি’। নিচে থেকে উপরে উঠানোর ফলে এতে শক্তি জমা হয় বা বিভব জমা হয় বলে একে বিভব শক্তি বলে। বস্তু যত উপরে উঠবে, অভিকর্ষের প্রভাবে ভূমির সাপেক্ষে তার বিভব শক্তি ততই বাড়বে।

পুরো বিশ্ব কীভাবে সূর্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এর মাধ্যমে আমরা তা বুঝতে পারি। উদ্ভিদ যখন আলোর উপস্থিতিতে খাদ্য-চিনি উৎপন্ন করে, তখন সূর্য সাহায্য করছে। যখন কোনো তৃণভোজী বা মাংসভোজী প্রাণী খাদ্য হিসেবে অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদকে খাচ্ছে, তখনও শক্তির উৎস হিসেবে থাকছে সূর্য।

আমরা যদি আমাদের আশেপাশে মাটি, পানি, পাতা, লতা, কাঠ, কয়লা, তেল কাগজ, কাপড়, ফার্নিচার, হিটার, ফ্যান ইত্যাদির দিকে তাকাই, তাহলে সবখানেই দেখতে পাবো সূর্যের অবদানের উপস্থিতি। প্রত্যেকটা মিনিটে মিনিটে আমরা সূর্যের অবদানের কাছে ঋণী। পৃথিবীর সকল প্রাণই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সূর্যের কাছে ঋণী। সূর্য যে এতকিছু উপহার দিচ্ছে মানুষকে তার অল্প স্বল্পও হয়তো মানুষ জানতো, তার কারণেই সূর্যকে পূজা করতো প্রাগৈতিহাসিক মানুষেরা। অ্যাজটেকরা সূর্যকে খুশি করার জন্য হাজার হাজার মানুষকে
ভয়াবহভাবে বলিদান করেছিল।
সূর্য কোনো দেবতা নয়, তবে দেবতা না হলেও পৃথিবীর মানুষকে যা উপকার করছে তা হাজার দেবতাকেও হার মানায়।
আমরা আজকের মানুষেরা সত্যিই ভাগ্যবান। সূর্যকে আমাদের পূজা করতে হচ্ছে না। বিজ্ঞানের কল্যাণে আজ আমরা জানি সূর্য আসলে একটা মহাজাগতিক বস্তু মাত্র, যা পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়ম কানুন মেনে তৈরি হয়েছিল এবং পদার্থবিজ্ঞানেরই কিছু নিয়মের প্রভাবে এক সময় মরে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।

Monday, November 28, 2016

জিল্যান্ডিয়া: পৃথিবীর বুকে জেগে ওঠা নতুন এক মহাদেশ।

সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে আছে কতই না ঐশ্বর্য, আর কতই না রহস্য! এভাবে সমুদ্রের তলায় রহস্যের সন্ধান করতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা এক চরম বিস্ময়ের খোঁজ পেলেন, যা ছিল এক কথায় অবিশ্বাস্য! প্রথম দিকে অনেকেই দ্বিধান্বিত ছিলেন এই ভেবে যে, সত্যিই কি তারা আবিষ্কার করতে চলেছেন কোটি কোটি বছর ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে শুয়ে থাকা নতুন এক মহাদেশ!
নিউজিল্যান্ড উপকূলের একটি দৃশ্য।
‘জিল্যান্ডিয়া’ হলো সাম্প্রতিককালে বিজ্ঞানীদের সন্ধান পাওয়া এক নতুন অঞ্চলের নাম। গবেষকদের দাবি, মহাদেশ হিসেব স্বীকৃতি পাওয়ার সব ধরনের যোগ্যতাই রয়েছে এই অঞ্চলটির। এটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব পাশে অবস্থিত। এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়া- এই সাতটি মহাদেশের বাইরে অষ্টম মহাদেশ হিসেবে ‘জিল্যান্ডিয়া’কে তালিকাভুক্ত করার জন্য বিজ্ঞানীরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জিল্যান্ডিয়ার মানচিত্র।
নতুন মহাদেশটি কোথায় অবস্থিত? কবে, কোথায়, কীভাবে এর জন্ম হলো? কেনই বা এই নামকরণ? কেমন হবে মহাদেশটির আকার? আয়তনের দিক থেকে কি অন্য সব মহাদেশের সমকক্ষ হবে, নাকি শুধু ক্ষুদ্র একটি মহাদেশ হিসেবে এই পৃথিবীর বুকে তার অস্তিত্ব জানান দেবে জিল্যান্ডিয়া? কী জন্যই বা বিজ্ঞানীরা এতটা উঠেপড়ে লেগেছেন একে মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য? চলুন তাহলে মনের মধ্যে জমে থাকা এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।
জিল্যান্ডিয়ার দক্ষিণ অংশের মানচিত্র।
১৯৯৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ব্রুস লুয়েন্ডিক ‘জিল্যান্ডিয়া’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। ১৯৬০ সালে সমুদ্রের নিচে তেলের খনি অনুসন্ধানের সময় এই মহাদেশের অস্তিত্ব খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। তারপর জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আরো বিস্তৃত গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এ সময় বিজ্ঞানীদের হাতে এমন কিছু তথ্য আসে যার উপর ভিত্তি করে তারা জিল্যান্ডিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

জিল্যান্ডিয়া একটি প্রায় নিমজ্জিত মহাদেশীয় ভূ-খণ্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে এক বিশাল অঞ্চল এই জিল্যান্ডিয়া, এটি মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলেই দাবি বিজ্ঞানীদের। জিল্যান্ডিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলই পানির নিচে নিমজ্জিত। নিউজিল্যান্ড হচ্ছে এই মহাদেশের জেগে থাকা একমাত্র পবর্তের চূড়া।
জিল্যান্ডিয়ার ভূ-প্রকৃতিগত অবস্থান।
সমুদ্র তলদেশ থেকে প্রায় ১২,২১৭ ফুট উচ্চতায় এই মহাদেশের অবস্থান। নিউজিল্যান্ডের জিএনএস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের দীর্ঘ ছয় বছরের গবেষণায় উঠে আসে মহাদেশটি সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য। মহাদেশটি খুবই সম্পদশালী। এর সমুদ্রের নিচে রয়েছে বিপুল পরিমাণের জীবাশ্ম জ্বালানি , যা পৃথিবীর ভবিষ্যতের দীর্ঘ সময়ের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এর মূল্য হবে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিজ্ঞানীদের দেয়া তথ্য মতে, ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার চেয়ে একেবারেই আলাদা হবে এই জিল্যান্ডিয়া মহাদেশ।
নতুন মহাদেশ হিসেবে জিল্যান্ডিয়ার অবস্থান (ধূসর অংশটি)।
৬-৮.৫ কোটি বছর আগে এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং ক্রমাগত পানির নিচে নিমজ্জিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ৮.৫-১৩ কোটি বছর আগে জিল্যান্ডিয়া অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ২৩ কোটি বছর আগে সম্ভবত মহাদেশটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত ছিল। বর্তমানে মহাদেশটির সিংহভাগই প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে নিমজ্জিত। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশীয় ভূখন্ডাংশ বা অনুমহাদেশ যার আয়তন প্রায় ৪৯,২০,০০০ কি.মি.।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিউজিল্যান্ডের সামুদ্রিক সীমানা।
‘জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকা’-এর প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা এই মহাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। এটি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডের নর্থ ও সাউথ আইল্যান্ড এবং নিউ ক্যালিডোনিয়া ছাড়া বাকি অংশ জলের তলাতেই রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জিল্যান্ডিয়ার প্রায় ৯৪ শতাংশই দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে তলিয়ে আছে। পানির উপরে জেগে রয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এ মহাদেশের নাম দিয়েছেন জিল্যান্ডিয়া। মহাদেশটি যেহেতু দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পানির নিচে, সেহেতু নিউজিল্যান্ড এবং ইন্ডিয়া এ দুটি দেশের নাম মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা মহাদেশটির নাম রেখেছেন জিল্যান্ডিয়া।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিউজিল্যান্ড আসলে এই মহাদেশেরই জেগে থাকা অংশ। বলা যেতে পারে, এই মহাদেশের পর্বতচূড়া। নিউজিল্যান্ডের আদি নাম ছিল গন্ডোয়ানা। ৮৫ মিলিয়ন বছর আগে গন্ডোয়ানা বিভক্ত হয়। তখনই সৃষ্টি জিল্যান্ডিয়ার। তবে এর আলাদা হবার ঘটনাটি অদ্ভুত, এটি বিচ্ছিন্ন হবার পর পুরোপুরি ভেঙে না গিয়ে নিজ ক্ষেত্রে একটু প্রসারিত হয়ে যায়। এই মহাদেশ আকারে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সমান এবং ইউরোপের অর্ধেক।
সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা নতুন মহাদেশ জিল্যান্ডিয়া।
আপাতদৃষ্টিতে জিল্যান্ডিয়াকে বৃহৎ এবং সমন্বিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এর অর্থ দাঁড়ায়, জিল্যান্ডিয়াকে মহাদেশ হিসেবে দাবি করা যায় না। এমন যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন একদল গবেষক। কিন্তু সম্প্রতি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং সমুদ্র তলের মাধ্যাকর্ষণ মানচিত্র ব্যবহার করে জিল্যান্ডিয়াকে একটি সমন্বিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমুদ্রের প্রায় ৩,২৮০ ফুট নিচে নতুন এই মহাদেশটির সীমারেখা দেখতে পাওয়ার পর থেকেই তার উপর ভিত্তি করে ভূতাত্ত্বিকগণ জিল্যান্ডিয়াকে মহাদেশ হিসেবে মেনে নেয়া যায় বলে জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন।
নিউজিল্যান্ড উপকূলের অন্য আরেকটি দৃশ্য।
জিল্যান্ডিয়ার কিছু মাটি ও পাথরের নমুনা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন। এর মাটির সাথে মহাদেশ ভিত্তিক যে ভূখণ্ড রয়েছে তার আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। কিন্তু সমুদ্রের তলদেশের গঠনের সাথে এই মাটির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই জিল্যান্ডিয়াকে মহাদেশ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ১১ জন ভূতাত্ত্বিকের দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল এই যে, একটি মহাদেশ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চারটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান জিল্যান্ডিয়ার। এর মধ্যে আছে ভূখণ্ডের উচ্চতা, মহাসাগরীয় ভূত্বকের তুলনায় উচ্চ অবস্থান, বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ডের আগ্নেয়গিরি, রূপান্তরিত ও পাললিক শিলার উপস্থিতি এবং সমুদ্রের তলদেশের ঘনত্ব গতানুগতিকতার চেয়ে বেশি- এসব বৈশিষ্ট্য। ফলে মহাদেশ হিসেবে বিবেচিত হবার জন্য অবস্থানে আছে জিল্যান্ডিয়া।
গবেষণার প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানচিত্রে দেখানো কালো বিন্দুগুলো জীবাশ্ম জ্বালানি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান দিচ্ছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী হামিশ ক্যাম্পবেল ২০০৭ সালে তার প্রকাশিত হওয়া ‘ইন সার্চ অব এনশিয়েন্ট নিউজিল্যান্ড’ শীর্ষক বইয়ে নতুন এই মহাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “আগে পুরো জিল্যান্ডিয়া মহাদেশটিই জলের তলায় ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে প্লেট মুভমেন্টের ফলে জলের উপরে উঠে আসে নিউজিল্যান্ড। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরের আরো একটি দ্বীপ রাষ্ট্র ফরাসি উপনিবেশ নিউ ক্যালিডোনিয়ার মধ্যবর্তী অংশেই জিল্যান্ডিয়ার অবস্থান।” নিউজিল্যান্ডের ভূতত্ত্ববিদ নিক মরটিমার মতে, জিল্যান্ডিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীরা দুই দশকের বেশি সময় নিয়ে গবেষণা করছেন।
স্বীকৃতি পেলে মানচিত্রে জিল্যান্ডিয়ার অবস্থান।
মরটিমা আরো বলেন, একটি মহাদেশ হতে যা দরকার তার চেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব রয়েছে এই জিল্যান্ডিয়ার। মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজনীয় সকল কোটা পূরণ করেছে এই ভূখণ্ড। তাই একে মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যায় বলেই তার অভিমত। যদি এটি মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তবে ৪.৯ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার (১.৮৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল) আয়তনের জিল্যান্ডিয়া হবে পৃথিবীর অষ্টম এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। আশা করা যাচ্ছে এখন থেকে মানচিত্রে জিল্যান্ডিয়ার অবস্থান নতুন করে দেখানো হবে। সাতটি মহাদেশের সাথে যোগ হবে নতুন আরেকটি মহাদেশের।

কালের আবর্তে পৃথিবীতে কি জেগে উঠবে নতুন এক মহাদেশ?
এর উত্তর পাওয়া যাবে আগামী দিনগুলোতেই।