Showing posts with label প্রাণীবিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label প্রাণীবিজ্ঞান. Show all posts

Tuesday, October 10, 2017

টিকটিকির লেজ পুনঃসৃষ্টির কৌশল আবিষ্কৃত।

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা টিকটিকির লেজের পুনরায় সৃষ্টির সাথে জড়িত কোষগুলো সনাক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা মানবদেহের স্নায়ুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা পুনঃরুৎপাদনের পদ্ধতি উদ্ভাবনে অগ্রগতির আশা করছেন। অটোটমি (Autotomy) নামক একটি প্রক্রিয়ায় কিছু টিকটিকিকে লেজ খসিয়ে ফেলার সক্ষমতা অর্জন করতে দেখা যায়। শিকারীর কাছ থেকে হুমকীর সম্মুখীন হলেই এ ঘটনাটি ঘটানো হয়। খসে পড়া লেজটি কিছুক্ষণ নড়তে থাকে, ফলে শিকারীর দৃষ্টি বিচ্যুত হয় এবং এই ফাঁকে টিকটিকি নিরাপদ স্থানে সরে যায়।

এটি সুনির্দিষ্টভাবে টিকটিকি বা গিরগিটির একটি বৈশিষ্ট্য। তবে কিছু প্রজাতির স্যালম্যান্ডারও এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। লেজ খসানোর পর হতে গিরগিটির লেজটি পুরনায় বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয় এবং নতুন করে গজিয়ে যায়। গেকো নামক গিরগিটির ক্ষেত্রে এটি পুনরায় জন্মাতে ৩০ দিন সময় লাগে। অন্যান্য টিকটিকির ক্ষেত্রে সময় লাগে আরো কম।

বিজ্ঞানীরা, বিশেষ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে জড়িতরা এই ক্ষেত্রে যে বিষয়ে আগ্রহবোধ করেছেন তা হলো স্তন্যপায়ীর মতো টিকটিকির স্নায়ুরজ্জু পিঠেই শেষ হয়ে যায় না বরং লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তার মানে হলো যখন টিকটিকি লেজ পুনর্জন্মানোর প্রক্রিয়া শুরু করে তখন সেই সাথে স্নায়ুরজ্জুও বৃদ্ধি পেতে হয়। ধুর্ত এই সরীসৃপগুলো কীভাবে স্নায়ুরজ্জু পুনরোৎপাদন করে, বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে সেই প্রক্রিয়াটি জানতে আগ্রহী।

অধ্যাপক ম্যাথু ভিকারিয়াস এই প্রসঙ্গটি এভাবে ব্যাখ্যা করেন,
"আমরা জানি গেকোর স্নায়ুরজ্জুর পুনোরুৎপাদন ঘটে। তবে আমরা জানতাম না কোন কোষগুলো এর পেছনে অবদান রাখে। মানুষ স্নায়বিক আঘাত নিয়ন্ত্রনে খুবই আনাড়ি। তাই আমি আশা করছি, গেকোর কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু শিখতে পারব যার মাধ্যমে মানুষের স্নায়ুরজ্জুর আঘাত নিজে নিজে নিরাময় করা যাবে।"
বিজ্ঞানীরা শিকারীর মতো আচরণ অণুকরণ করে গবেষণাগারে একটি লেপার্ড গেকোর লেজটি খসিয়ে দেন এবং কোষীয় পর্যায় কী ঘটনা ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা দেখতে পান গেকোর স্নায়ুরজ্জুতে রেডিয়াল গ্লিয়া নামক এক বিশেষ ধরনের স্টেম কোষ থাকে। এই কোষগুলো সব মেরুদন্ডী প্রানীর মধ্যেই পাওয়া যায় এবং প্রানীর প্রাথমিক স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে। কিন্তু এরপরই নিশ্চুপ হয়ে যায়।

তবে যখন টিকটিকির লেজ খসে যায় তখন অন্য কোনো কিছুর প্রণোদনায় এরা আর নিশ্চুপ থাকে না বরং সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা নতুন কিছু প্রোটিন তৈরি করে এবং দ্রুত সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। ফল এক পর্যায়ে গিয়ে স্নায়ু রজ্জু মেরামত হয়ে যায়। শুধু যে লেজের স্নায়ুতন্ত্রই এরা মেরামত করতে পারে তা নয়, বরং অন্যান্য অংশের এমনটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আঘাতপ্রাপ্ত হলেও টিকটিকি তা মেরামত করতে পারে। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা বেশী উৎসাহবোধ করছেন।

Tuesday, September 5, 2017

উল্কাপিন্ডের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের প্রথম আগমন বলে ধারনা বদ্ধমূল হচ্ছে।

নতুন গবেষাণায় দেখা গেছে আমাদের এই গ্রহে প্রাণের উদ্ভব শুরু হয়েছে ছোট উষ্ণ পুকুরজাতীয় জলাধারগুলোতে উপর্যুপরি উল্কাপতনের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে সৃষ্ট রাসায়নিক চেইন বিক্রিয়ায় পৃথিবীর প্রথম জেনেটিক কোডটুকু তৈরি হয়।
আদিপ্রাণ বা প্রাণের প্রথম উদ্ভব হয়েছে পানি থেকেই।
এই ওয়ার্ম পন্ড বা উষ্ণ পুকুর হাইপোথিসিস যদিও নতুন নয় তবে সাম্প্রতিক নতুন তথ্য এবং গণনা এই ধারনার পালে হাওয়া যুগিয়েছে এবং এর সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর এস্ট্রোনমির যৌথ গবেষণায় বলা হয়, পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।

গবেষকদলের সদস্যদের একজন বেন কে. ডি. পিয়ার্স বলেন,
“ইতিপূর্বে কেউই এধরনের গণনা করে দেখে নি। এটা বড়সড় সূচনা এবং খুবই উৎসাহব্যাঞ্জক।”
এই গণনায় RNA তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা হয়েছে। এটি জীবের জীনগত বৈশিষ্ট্য ধারনের এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রভাবক হিসেবেও কাজ করার ভিত্তিমূলক অণু। উক্লাপিন্ডের আঘাতে প্রয়োজনীয় জৈব যৌগের উপস্থিতি তৈরি হওয়ার মাধ্যমে এই অণু তৈরি হতে পারে? নিশ্চিতভাবেই- জানিয়েছে নতুন এই গবেষণার পেছনে থাকা দলটি। যথাযথ বৃষ্টিপাত এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে এই বস্তুগুলো তৈরি হয়। এই RNA পরবর্তীতে আরো জটিকালার ধারন করতে পারে এবং DNA তৈরি করতে পারে।
পৃথিবী যখন উত্তপ্ত অবস্থা হতে তরল পানি ধারন করার মতো শীতল অবস্থায় পৌঁছায় তখনই প্রাণের এধরনের উদ্ভবের ঘটনা ঘটে।
তাঁদের গবেষনায় প্রাপ্ত তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গবেষকদলটি জ্যোতির্পদাবিদ্যা, ভূতত্ত্ব, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার তথ্য-উপাত্তকেও কাজে লাগায়। গবেষণার সাথে জড়িত অপর এক সদস্য র্যালফ পুড্রিটজ বলেন,
“বিভিন্ন ক্ষেত্রে এতধরনের ইনপুট রয়েছে এবং এদের প্রত্যেকে একই ফলাফল নির্দেশ করছে এটা বিষ্ময়কর।”
নতুন গবেষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভবের সময়কাল ৩৭০ কোটি বছর হতে ৪৫০ কোটি বছরের মধ্যে কোনো এক সময়ে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের গণনাকৃত সময়ের তুলনায় এটি আরো প্রাচীন তবে এখনো এর নিশ্চয়তা দেওয়া যায় নি। একটি শিলার নমুনার গবেষণা হতে দেখা যায় সবচেয়ে প্রাচীন প্রানী জীবের উদ্ভব হয়েছে ৪০০ কোটি বছর আগে।

Sunday, July 9, 2017

পৃথিবীর অদ্ভুত যত প্রাণী!

পৃথিবীর আনাচে-কানাচে কত না জীবজন্তু চরে বেড়াচ্ছে, তার কয়টাকেই বা আপনি দেখেছেন? একশ? দেড়শ?
বা বড়জোর তার চেয়ে খানিকটা বেশিই হবে। কিন্তু ৯ মিলিয়ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন কিছু চেহারার প্রাণী রয়েছে যেগুলো দেখলে মনে হবে এগুলোর অস্তিত্ব কি আসলেই রয়েছে? তাহলে, সেরকম কিছু অদ্ভুত প্রাণী দেখতে তৈরি হয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।



স্কোটোপ্লেনসঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Scotoplanes Globosa

Scotoplanes Globosa
সমুদ্রের একেবারে তলায় থাকা এইসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণীর অন্য নামও রয়েছে, বিশেষ করে এগুলো “সী পিগ” বা সমুদ্রের শূকর নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তার কারণও অবশ্য সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়, এর চেহারার সাথে শুকরের অমিল খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। আটলান্টিক, প্যাসিফিক আর ভারত মহাসাগরের দেড় থেকে ৫ কিলোমিটার নিচে এদের দেখা পাওয়া সম্ভব। সমুদ্রের তলদেশের কাঁদা থেকে এরা নিজেদের খাবার সংগ্রহ করে নেয়!


গবলিন হাঙরঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Mitsukurina Owstoni
Mitsukurina Owstoni
গভীর সমুদ্রের অন্ধকার জগতের বাসিন্দা এই গবলিন হাঙরের চেহারাটা সত্যিই চমকে ওঠার মতো, যেন একেবারে সাক্ষাৎ শয়তান। লিভিং ফসিল নামে পরিচিত হাঙরের এই প্রজাতি Mitsukurinidae পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য। ১০ ফুট থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হওয়া এসব হাঙরের চেহারা ভয়াবহ হলেও এরা খুব একটা আক্রমণাত্মক নয়।


গ্রাউন্ড প্যাঙ্গোলিনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Smutsia Temminckii
Smutsia Temminckii
বুনো আফ্রিকার অধিবাসী এই প্যাঙ্গোলিনের সারা দেহ শক্ত আইশ দিয়ে চারপাশ আটকানো। আক্রমণের আশঙ্কা করলেই এরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়ে বলের মতো গোলাকার আকার ধারণ করে। দুই পায়ে চলাফেরা করতে পারলেও সাধারণত খাবার খোঁজার কারণে লেজসহ চারটি পা-ই ব্যবহার করে এই অদ্ভুত সুন্দর দেহের অধিকারী প্রাণীটি।


লালঠোঁট ব্যাটফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Ogcocephalus Darwini
Ogcocephalus Darwini
আমেরিকা মহাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসী এই মাছটিকে প্রথম দেখাতে মনে হবে কোনো রাগী চেহারার মহিলা ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মেখে বসে আছেন! মৎস্য প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হয়েও সাঁতার কাটতে অনভ্যস্ত এই প্রাণী সাধারণত সাগরের তলদেশে হেঁটে বেড়ায় এবং ছোটখাট চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ খায়।


ম্যান্টিস চিংড়িঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Stomatopoda
Stomatopoda
পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪০০ প্রজাতির ম্যান্টিস চিংড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সমুদ্রের আনাচেকানাচে। স্টোমাটোপোডা গোত্রের এই চিংড়িগুলোর অসাধারণ কিছু দাঁড়াও রয়েছে যার সাহায্যে শিকারকে সহজেই ফুটো করে ফেলতে পারে। এমনকি বড় প্রজাতির চিংড়িগুলোও মাত্র এক গুঁতোতেই অ্যাকুয়ারিয়ামের কাঁচ ভেঙে ফেলতে পারে!


গোলাপী আরমাডিলোঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Chlamyphorus Truncates
Chlamyphorus Truncates
১৮২৫ সালে আর্জেন্টিনায় আবিষ্কার হওয়া সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রজাতির এই আরমাডিলোর আকার মাত্র সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ইঞ্চি। পিঠের শক্ত আবরণ দ্বারা বেষ্টিত এই স্তন্যপায়ীর প্রধান খাদ্য পিঁপড়া এবং লার্ভা।


সিংহকেশর জেলিফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Cyanea Capillata
Cyanea Capillata
জেলিফিশ প্রজাতিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই প্রাণীটি জায়ান্ট জেলিফিশ এবং হেয়ার জেলিফিশ নামেও বেশ পরিচিত। আর্কটিক, উত্তর আটলান্টিকসহ সুমেরুর কাছাকাছি শীতল পানিতে এদের দেখা মেলে। ১৮৭০ সালে ম্যাসাচুসেটসের উপসাগরে সবচেয়ে বড় জেলিফিশের খোঁজ পাওয়া যায় যার দেহ ছিল সাড়ে সাত ফুট এবং শুড়গুলোও প্রায় ১২০ ফুট লম্বা!


বক্সার কাঁকড়াঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Lybia
Lybia
লিবিয়া গণের ১০টি প্রজাতি এই ক্ষুদ্রাকৃতির কাঁকড়াদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের আকৃতিবিশিষ্ট এই কাঁকড়াগুলো পরিচিত বক্সিং কাঁকড়া, বক্সার কাঁকড়া এবং পম-পম কাঁকড়া হিসেবে। এরা মূলত সামুদ্রিক অ্যানিমোনদের সাথে মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এরা নিজেদের দাঁড়ায় অ্যানিমোনগুলোকে রেখে বিপদ থেকে রক্ষা করে, অপরদিকে অ্যানিমোনগুলো এর বিনিময়ে খাবার সংগ্রহ করে।


নীল ড্রাগনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Glaucus Atlanticus
Glaucus Atlanticus
খোলস ছাড়া এই মলাস্কা পর্বের প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা কাল্পনিক ড্রাগনের মতোই। আকারে মাত্র ১.২ ইঞ্চি এই আটলান্টিকের অধিবাসী হাত দিয়ে ধরতে গেলেই ভয়াবহ যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হবে, কারণ তার আগেই বিষাক্ত ছোট কাঁটা আপনার হাতে ঢুকে গিয়েছে যে।


ডুগংঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Dugong Dugon
Dugong Dugon
পানির নিচে বাস করা স্তন্যপায়ী এবং একই সাথে তৃণভোজী, এরকম প্রাণী পৃথিবীতে আর একটি প্রজাতিই টিকে আছে আর তা হলো ডুগং। দুঃখজনকভাবে, তেল এবং মাংসের জন্য অতিরিক্ত শিকার করার কারণে এই সুন্দর প্রাণীটি প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।


নগ্ন ছুঁচোঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Heterocephalus Glaber
Heterocephalus Glaber
পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই নগ্ন ছুঁচোগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো মুখের সামনের বড় দুটো দাঁত। মাটির নিচ দিয়ে চলার সময় তাদের এই দাঁত একইসাথে মাটি কাটতে সাহায্য করে এবং মুখের ভিতর মাটি চলে যেতে প্রতিহত করে। এগুলোকে স্যান্ড-পাপি নামেও ডাকা হয়। এদের দেহের বিশেষ কোষের জন্য এদের কখনো ক্যান্সার হয় না। এছাড়াও অসাধারণ ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা এবং কম অক্সিজেনেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এই নগ্ন ছুঁচোগুলোর।


পান্ডা পিঁপড়াঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Mutillidae
Mutillidae
পিঁপড়া নামে পরিচিত হলেও এই পতঙ্গগুলো মূলত একধরণের বোলতা। আর নামের আগে পান্ডা বসানোর কারণ হলো এদের গায়ের লোমের রঙ। সাধারণত কালো-কমলা হলেও পান্ডার মতো সাদা-কালো রঙের অসাধারণ সম্মিলনও দেখা যায়। বোলতার কামড় খাওয়া প্রবাদের সাথে এদের ক্ষমতা নিখুঁতভাবে মিলে যায়। এদের বিষাক্ত কাঁটার আঘাতে গরু পর্যন্তও মারা যেতে পারে।


নেকড়ে মাছঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Anarhichas Lupus
Anarhichas Lupus
নেকড়ে মাছের ভয়াবহ দাঁত খিঁচানো মুখ দেখলে যে কেউই ভয় পেতে পারে। প্রায় সাড়ে তিন ফুট লম্বা এবং ৯০ কেজি ওজনের বিশাল আকারের মাছ প্রধানত পাওয়া যায় সুরিনামের উপকূলীয় অঞ্চলে। ছোট প্রাণী এবং অন্যান্য মাছ এদের প্রধান খাদ্য।


কাঁটাযুক্ত ড্রাগনঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Moloch Horridus
Moloch Horridus
অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অধিবাসী মলোচ গণের একমাত্র প্রাণী পরিচিত কাঁটাযুক্ত গিরগিটি, কাঁটাযুক্ত শয়তান এমনকি পর্বতের শয়তান নামেও। ক্যামেলিয়নদের মতো এরাও নিজেদের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে, তবে মরুভূমিতে থাকার কারণে সাধারণত এদের বাদামী বর্ণই চোখে পড়ে। প্রায় আট ইঞ্চি লম্বার এই প্রাণীর সারা দেহ ঢাকা অসংখ্য শক্ত কাঁটা দিয়ে, যার কারণে অন্যান্য শিকারি প্রাণীরা সাধারণত এদের ঘাঁটাতে আসে না। এদের আরও একটি সুবিধা হলো এরা নিজেদের দেহের যেকোনো অঙ্গ দিয়েই পানি শুষে নিতে পারে যা এদেরকে মরুভূমিতে টিকে থাকতে বেশ ভালোরকম সহায়তাই করে।


ব্লব ফিশঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Psychrolutes Marcidus
Psychrolutes Marcidus
পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত চেহারার প্রাণী নামে পরিচিত এই ব্লবফিশকে বলা যায় শুধুই জেলাটিনের একটু দলা। এদের এই জেলাটিনসমৃদ্ধ কোষ পানি থেকেও হালকা, এ কারণে এদের সাঁতার কাটতে কোনো রকম কষ্ট করতে হয় না। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং তাসমানিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এদের দেখা মিলবে খুব সহজেই।


আয়ে-আয়েঃ
বৈজ্ঞানিক নামঃ Daubentonia Madagascariensis
Daubentonia Madagascariensis
Daubentoniidae পরিবারের একমাত্র টিকে থাকা প্রজাতি আয়ে-আয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী নিশাচর প্রাণীও বটে। অদ্ভুত চেহারার এই লেমুরকে মাদাগাস্কারের সামান্য কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। এদের নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কারও প্রচলিত রয়েছে, যেমন আয়ে-আয়েদেরকে খারাপ বলে মনে করা হয় এবং দেখামাত্র হত্যা করার মতো রীতিও চালু রয়েছে। এ কারণে এর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় IUCN আয়ে-আয়েকে বিলুপ্তপায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Tuesday, June 27, 2017

বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর ৮টি সাপের ইতিবৃত্ত...

সাপ, নিরীহ একটি প্রাণী, কিন্তু একই সাথে ভয়াবহ। এদের তীক্ষ্ণ সংবেদনশীলতা, উগ্রতা, দ্রুততা আর বিষাক্ততার জন্যে নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক প্রাণীগুলোর তালিকায় একে রাখতেই হবে। তবে সব সাপ আবার সমান বিপদজনক নয়। বিষের কার্যক্ষমতার উপর ভিত্তি করে এদের ভয়াবহতায় আছে কম-বেশি। বিভিন্ন বিষধর সাপের কামড়ে প্রতি বছরই সমগ্র বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষ মারা যায় শুধু সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে। কিছু সাপের বিষ আবার এতোটাই ভয়াবহ যে চিকিৎসা নেবার মতো সময় পাবার আগেই মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আজ আমরা জানবো বিশ্বের সবচেয়ে বিষধর ও ভয়াবহ ৮টি সাপের কথা।



(১) বেচলার’স সি স্নেকঃ
বেচলার’স সি স্নেক একটি সামুদ্রিক সাপ। অন্যান্য সামুদ্রিক সাপের মতোই এদের সাঁতার কাটার জন্যে পেডেলের মতো লেজ আছে। এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেয়। শিকার অথবা ঘুমের প্রয়োজনে এরা ৭/৮ ঘন্টা অবধি শ্বাস চেপে পানির নিচে কাটাতে পারে। কিন্তু শ্বাস নেবার জন্যে এদের পানির উপরে ভেসে উঠতে হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপ বলা যায় একে এদের। এর মাত্র দুই মিলিগ্রাম বিষ ১০০০ মানুষ মারার মতো ক্ষমতা রাখে। তবে এদের কামড়ের চারভাগের একভাগেই মানুষ মারার মতো যথেষ্ট পরিমাণ বিষ থাকে।
বেচলার’স সি স্নেক
যদিও এরা স্বভাবে নিরীহ, কিন্তু সমুদ্রে বিচরণকারী জেলেদের জন্যে এরা সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত। প্রায়ই এরা জেলেদের জালে ধরা পড়ে আর তখই হয় বিপদ। যদিও এদের কামড়ে ব্যাথা হয় না, কিন্তু কামড়ের সাথে নিউরোটক্সিন শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে মানুষ তার অনুভূতি হারাতে থাকে। নিউরোটক্সিন হলো স্নায়ুতন্ত্রকে অবশকারী বিষ। এভাবেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর উত্তর অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে এদের দেখা মেলে।



(২) ইনল্যান্ড তাইপানঃ
বিষধর সাপদের গডফাদার বলা যায় এদের। এরা ‘ওয়েস্টার্ণ তাইপান’ বা ‘ছোট আঁশওয়ালা সাপ’ এবং ‘হিংস্র সাপ’ নামেও পরিচিত। আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসিরা এদের ডাকে ‘ড্যান্ডারাবিলা’ নামে। এদের বিষের ১১ মিলিগ্রাম ১০০ জন মানুষ হত্যা করতে যথেষ্ট। পরিণত বয়সের একজন মানুষ মারতে সক্ষম যেকোনো সাপের তুলনায় এরা দশগুণ বেশি বিষধর। এদের কামড়ের ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু নিশ্চিত।
ইনল্যান্ড তাইপান
এরা খুবই দ্রুতগামী। অতিশয় দ্রুততা ও সূক্ষ্মতার সাথে এরা এরা শিকারকে আঘাত করতে পারে। অনেক সময় একই লক্ষ্যবস্তুকে এরা বারবার আঘাত করে। এ থেকেই বোঝা যায় এদের হিংস্রতা। তবে সাধারণ সাপের মতোই এরা শান্ত ও মুখচোরা ধরনের। এরা ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চায়। তবে উত্ত্যক্ত বোধ করলে বা পালাবার পথ খুঁজে না পেলে ভয়ানক হয়ে ওঠে।



(৩) ব্ল্যাক মাম্বাঃ
আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে খুঁজে পাওয়া ব্ল্যাক মাম্বা পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী স্থল সাপ। এরা ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে চলতে পারে। এরা অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক এবং খুব দ্রুততার সাথে আক্রমণ করতে পারে। লক্ষ্যবস্তুকে একটানা ১২ বার পর্যন্তও এরা আঘাত করতে পারে। এদের সাধারণ একটা কামড় এরা ১০-২৫ জন মানুষ হত্যা করতে পারে। একেকটি কামড়ে এরা ১০০-১২০ মিলিগ্রাম বিষ শিকারের শরীরে ঢুকিয়ে দেয়।
ব্ল্যাক মাম্বা
এদের বিষ অতি দ্রুত কাজ করা নিউরোটক্সিন। ব্ল্যাক মাম্বার ০.২৫% বিষ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করলেই মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখমন্ডলের পেশীতে তীব্র খিঁচুনি অনুভূত হয়। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রা, দৃষ্টিবিভ্রম, মাংসপেশীর উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো ও নাক ও মুখ দিয়ে ফেনা ওঠা আক্রান্ত হবার প্রাথমিক লক্ষণ। দ্রুত চিকিৎসা না দিলে বিষ রেচনতন্ত্র ও হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র পেট ব্যাথা ও বমির সাথে সাথে আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।



(৪) টাইগার স্নেকঃ
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল, উপকূলীয় দ্বীপসমূহ ও তাসমানিয়ায় বাস করা এই সাপের বিষ অতি ক্ষমতাধর। ৩০ মিনিটের মধ্যে এদের বিষে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এদের বিষে মানুষের মৃত্যুর হার ছিল ৭০%। আক্রান্ত হবার লক্ষণের মধ্যে আছে পায়ে ও গলায় ব্যাথা, খিঁচুনি, অসাড়ভাব এবং ঘাম হওয়া। ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং ব্যক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
টাইগার স্নেক
উষ্ণ রাতে সাধারণত এরা শিকারে বেশি সক্রিয় হয়। আক্রমণের সম্মুখীন হলে এরা দেহ প্রসারিত করে ফনা তুলে ফেলে। এরা ২ মিটার অবধি লম্বা হতে পারে। দেহে বাঘের মতো সোনালী হলুদ ডোরা থাকায় এদের টাইগার স্নেক নামে ডাকা হয়।


(৫) র্যাটল সাপঃ
সবচেয়ে বিষধর সাপদের তালিকায় আমেরিকান একটি সাপেরই নাম আছে, র্যাটল সাপ। আমেরিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম কানাডা ও মধ্য আর্জেন্টিনায় এদের দেখা মেলে। আমেরিকার টেক্সাস ও আরিজোয়ানায় এদের বেশি পাওয়া যায়। উন্মুক্ত, পাথুরে জায়গায় এদের বসবাস বেশি। পাথুরে পরিবেশ এদের প্রতিরক্ষায় সাহায্য করে এবং শিকারের প্রাচুর্য প্রদান করে। এদের লেজের অগ্রভাগে যে ঝনঝন করা অংশটি আছে, সেটির কারণেই এদের নাম র্যাটল।
র্যাটল স্নেক
এরা পিট ভাইপার সর্প পরিবারেরই একটি অংশ। র্যাটল সাপের চোখে অধিক পরিমাণ রড কোষ থাকায় অন্ধকারে এরা ভালো দেখতে পারে। তবে এরা পুরদস্তুর নিশাচর নয়। দিনের আলোয় এরা আরও তীব্র দৃষ্টির অধিকারী। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তরুণ র্যাটলরা বেশি বিপদজনক। এদের বিষ হেমোটক্সিক, অর্থাৎ রক্ত জমাট বাঁধাতে সক্ষম। বিষ শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্ত জমাট বেঁধে যায়, টিস্যু ও অঙ্গ একে একে নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত না করলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। ঠিক সময়ে প্রতিষেধক শরীরে প্রবেশ করালে মৃত্যুহার ৪% পর্যন্ত নেমে আসে।


(৬) ভাইপারঃ
বিষধর সাপের তালিকায় ভাইপার অতি পরিচিত একটি নাম। সমগ্র বিশ্বজুড়েই এদের পাওয়া যায়, তবে বিশেষ করে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের দেখা মেলে বেশি। ভাইপাররা রগচটা স্বভাবের। এরা নিশাচর এবং সাধারণত বৃষ্টির পর ভেজা পরিবেশে বেশি সক্রিয়। ভাইপারের বিষ হেমোটক্সিক। হেমোটক্সিক বিষ নিউরোটক্সিক বিষের তুলনায় বেশি সময় নেয় শিকারকে কাবু করতে।
ভাইপার
ভাইপারের উপরের মাড়িতে দু’টি অপেক্ষাকৃত বড় আকারের বিষদাঁত থাকে, যাদের কাজই হলো বিষ শিকারের দেহে প্রবেশ নিশ্চিত করা। এদের কামড়ের প্রাথমিক যে লক্ষণসমূহ দেখা যায়, তার মধ্যে আছে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া এবং রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নেমে যাওয়া, বমি এবং চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া। এছাড়া কামড়ের স্থানে ফোস্কা পড়ে যাওয়া সাধারণ ব্যাপার। চেহারার ফুলে ওঠা অংশের রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায়। লোহিত রক্ত কণিকা ও লসিকা মাংসপেশীর টিস্যু ভেদ করে ঢুকে পড়ে। রক্তে বিষক্রিয়াজনিত কারণে কিংবা শ্বসনতন্ত্র ও হৃদযন্ত্র অকেজো হয়ে ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্রির মৃত্যু ঘটে।


(৭) অ্যাডারঃ
অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ গিনি এই সাপের আবাসস্থল। সাক্ষাৎ যমদূতের মতো ভয়ানক দর্শন এই সাপের প্রধান খাদ্য অন্যান্য সাপ। এর খাদ্য তালিকায় আমাদের তালিকার অন্যান্য বিষধর সাপগুলোও আছে। এরা দেখতে অনেকটা ভাইপারের মতোই, ছোট্ট দেহ ও তিনকোণা মাথা।
অ্যাডার
অ্যাডারের কামড় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক কামড়গুলোর মধ্যে একটি, কারণ এদের বিষ নিউরোটক্সিক। অর্থাৎ বিষ ক্রিয়া করে সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে। দংশিত ব্যক্তির দেহ ৬ ঘন্টার মধ্যে পুরোপুরি অবশ হয়ে যায় এবং শ্বসনতন্ত্র অকেজো হয়ে ব্যক্তি মারা যায়। অ্যাডার এক কামড়ে ৪০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম বিষ শিকারের দেহে প্রবেশ করাতে পারে। অ্যাডার খুব দ্রুত শিকারে আঘাত করার ক্ষমতা রাখে। এরা দেহ প্রসারিত করে ০.১৩ সেকেন্ডের মধ্যে শিকারের দেহে আঘাত করে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। অ্যাডারের দংশনে মৃত্যুর হার ৫০%। তবে এদের বিষের প্রতিষেধক খুব কার্যকরী। ঠিক সময়ে চিকিৎসা দিতে পারলে আক্রান্ত মানুষটি বেঁচে যেতে পারে।


(৮) কিং কোবরাঃ
ভারতীয় কিং কোবরার নামের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। বাংলাদেশ, ভারত, ভূটান, চীন, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, এক কথায় সমগ্র এশিয়া জুড়েই এদের বিস্তৃতি। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা দেহের অধিকারী বিষধর সাপ। এরা ১৮.৮ ফুট অবধি লম্বা হতে পারে। ওজনে এরা ১২ কেজির উপরেও হতে পারে।
কিং কোবরা
অন্যান্য কোবরার থেকে কিং কোবরা কিঞ্চিৎ আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এরা খন্ডিত জিভের সাহায্যে কেমিক্যাল ইনফরমেশন গ্রহণ করে ও শিকারের জন্য সিগন্যাল এদের স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরিত হয়। ১০০ মিটার দূর থেকেও এরা শিকারের নড়াচড়া টের পায়। যেকোনো নড়াচড়ার প্রতি এরা অতি দ্রুত সংবেদনশীল। উত্যক্ত করা হলে কিং কোবরা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। তখন এরা শরীরের এক তৃতীয়াংশ মাটি থেকে উপরে তুলে ফেলে এবং ফনা তুলে হিসহিস শব্দ করতে থাকে। এই অবস্থাতেই এরা শিকারের দিকে ধেয়ে যেতে পারে। এক আঘাতে কিং কোবরা কয়েকবার দংশন করতে পারে। এদের বিষ নিউরোটক্সিক। বিষ ক্রিয়া করতে শুরু করলে ঘুম ঘুম ভাব হয়, আস্তে আস্তে শরীর অবশ হয়ে আসে। ধীরে ধীরে ব্যক্তি কোমায় চলে যায়। এরপর শ্বসনতন্ত্র ও হৃদপেশী অকেজো হয়ে ব্যক্তি মারা যায়। এদের কামড়ে মৃত্যুর হার ২৮%। সময়মতো চিকিৎসা পেলে আক্রান্ত মানুষটি বেঁচে যেতে পারে। উপমহাদেশের লোককথায় কিং কোবরা নিয়ে অনেক রুপকথা প্রচলিত আছে।



বিপদজনক হলেও অন্যান্য প্রানীদের মতোই সাপ আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য প্রানীবৈচিত্রের একটি অংশ। প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা জুড়ে সর্প সম্প্রদায় বিদ্যমান। তাই একইসাথে এদের সংরক্ষণ ও এদের থেকে সাবধানতা অবলম্বন দুটোই সমান জরুরী।

Wednesday, April 12, 2017

গোপন রহস্যে ভরপুর- মাকড়শার তৈরি মরণ ফাঁদ!

জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে আমরা যতই পণ্ডিত হই না কেন, অবাক করা এই বিস্ময়কর পৃথিবীর অজানা জট খুলতে খুলতেই কিন্তু আমাদের জ্ঞান ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। সত্যিই এ ধরণী বড়ই অদ্ভুত। অদ্ভুত চারপাশের প্রকৃতি, যার ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলানো আর তার সৃষ্টির খেলা হয়তবা আমরা অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক বেশি বেশি জানতে পারব। এমনও হতে পারে যে তার মাঝেই এমন অনেক কিছু থেকে যাবে অজানা রহস্যের বেড়াজালে।

জালের কথা এসেছে যখন, আসুন জেনে আসি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর জীবের তৈরি জালের শক্তি সম্পর্কে। এ নিয়ে কত শত অজানা তথ্যে আরও অবাক হতে ক্ষতি কী বলুন?
ইস্পাতের চেয়েও শক্ত পোক্ত মাকড়শার তৈরি এই জাল।
প্রকৃতির খুঁটিনাটি বের করা বিজ্ঞানের কাজ, আর বিজ্ঞানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করে প্রকৌশলবিদ্যা। আমার মতো উৎসুক মনের অধিকারী যারা, তারা নিশ্চয়ই প্রকৌশল বিদ্যার দ্বারস্থ না হয়ে টোকা দিয়ে বসেন অবাক করার মতো বস্তুর উপরেই। সে যাই হোক। মানবসৃষ্ট জাল সম্পর্কে বেশি কিছু বলার মতো নেই। আমার দৃষ্টি আরেকটি প্রাণীর সৃষ্ট জালের উপরেই। কী? বুঝতে পারছেন নি এখনো? আমি মাকড়শার জালের কথাই বলছি।
মাকড়শার অদ্ভুতুড়ে জাল।
কোনো এক অজানা কারণে আমি মাকড়শার উপর চরম ক্ষ্যাপা। কারণ হলো, এটা আমাকে প্রচন্ড ভয় দেখায়। আসলে এটা ভয় দেখায় না, আমি নিজ থেকেই মাকড়শা ফোবিয়াগ্রস্থ। জানি না, হয়তো আমার মতো এমনটা আরও অনেকেই থাকতে পারেন। কেমন কিলবিল করা আটখানা পা! যতই সেটা আকারে ছোট হোক না কেন, ভয়টা যেন কোথা থেকেই উদয় হয় একে দেখেই।

অনেক ছোট্ট বেলায় কোনো এক বিকেলে, দাদুবাড়ির উঠোনে হঠাৎ করেই খেলার সাথী চিৎকার জুড়ে দিলো যে, আমার ঘাড়ে নাকি বড়ই গাছের ডগা থেকে ইয়া বড় এক মাকড়শা এসে বসেছে। সত্যিই কিন্তু বসেছিল। তারপর তো আমার ভয়ে প্রাণান্তকর অবস্থা! যেই শুনেছি আট পাওয়ালা সেই প্রাণীটি আমার ঘাড়ে, আমার তো তখন নড়াচড়া বন্ধ। বাকিটা ইতিহাস। কেবল ভয়ে আধমরা হওয়ার স্মৃতিটুকুনই স্মরণ আছে। তারপর কী হয়েছিল তা আর মনে নেই।
জাল বুননের কারিগর মাকড়শা।
এই ভয় থেকেই হয়তো উৎসুক মন মাকড়শা ও তার জাল নিয়ে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আজ আপনাদের সাথে তেমন সব তথ্যই শেয়ার করবো।

আপনি কি জানেন, মাকড়শার জাল ইস্পাতের তারের চেয়েও বেশি শক্ত হয়ে থাকে। জলের উপর যারা স্কেটিং করে থাকেন তাদের মাঝে স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় যে, এক স্কেটার আরেক স্কেটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের গতি বাড়িয়ে-কমিয়ে চলতে থাকেন। যারা বিশেষ পটু তারা আবার জলের উপরেই অনেক কারসাজিও করে দেখান বটে। মাকড়শারাও কিন্তু ঠিক ঐ রকম কাজটাই করে থাকে। তারা টোকা দেয়, এমনকি ঢেউ তোলে জালের সুতোয়। জাল সে যেখানেই তৈরি করুক না কেন, আসল উদ্দেশ্য তার শিকার আক্রমণ। ঘাস ফড়িং, প্রজাপতি ইত্যাদি পতঙ্গ মাকড়শার প্রধান শিকার।
দুরন্ত উচ্চিংড়ে।
আশেপাশে কোনো মাকড়শার জাল খেয়াল করলে দেখবেন, জালে এসব ছোট্ট পোকাই হয়তোবা আটকে পড়ে রয়েছে। একটা বোকা উচ্চিংড়ে হঠাৎ লাফিয়ে জালের উপর ল্যান্ড করলেই জাল তার বাহাদুরি খেলা দেখাতে শুরু করে দেয়। কেন ছোট্ট পোকা এই জাল থেকে ছুটতে পারে না, এমন চিন্তা নিশ্চয়ই আমার মতো আপনার মাথাতেও দোল দিয়ে যায়।
মাকড়শার জালে শিকার সুন্দরী প্রজাপতি।
প্রথম কথা হলো, জালের সুতোয় মাখানো থাকে আঠা। আটকে পড়া পোকা জালের আঠা থেকে ছুটে যেতে ঝাপটাঝাপটি করতে শুরু করে। তবে সব ক্ষেত্রেই বিশেষ একটা লাভ হয় না আটকে পড়া শিকারের। উচ্চিংড়ে বা ফড়িং জাতীয় পোকাদের গায়ে, পায়ে, ডানায় বেশ জোর থাকে। কখনও কখনও হয়তোবা কপাল ভালো থাকলে জাল ছিঁড়ে রেহাই পেয়েও যায়। কিন্তু সবসময় তা ঘটে না।
মাকড়শার লাঞ্চ চলছে তার শিকার উচ্চিংড়ে দিয়ে।
মাকড়শার জালের সুতো এমনই এক মহা আশ্চর্যের জিনিস বলা চলে। সমান পুরুত্বের ইস্পাতের তারের চেয়েও মাকড়শার জাল কিন্তু অধিক পরিমানে শক্ত, মানে ছিঁড়তে বেশি শক্তি লাগে। সেই সাথে আরও অবাক করার বিষয় হলো এই জাল যতই টানাটানি করা হবে, তা ততই বাড়তেই থাকে। আর ঠিক এই গুণের দাপটেই কিন্তু উচ্চিংড়ে বা ফড়িং তার ডানার জারিজুরি খুব বেশি একটা খাটাতে পারে না। এসব কিন্তু আমার কথা নয়, নানা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রাপ্ত ফল, যা আমি জেনে শুধুমাত্র শেয়ার করার অধিকারের দাবিদার মাত্র।
মাকড়শার জালে আটকে পড়া প্রজাপতি।
শিকার যতই পা ছুড়ুক, জালের সুতোর টানে তা আরও বেশি পোক্ত হয়ে শিকারকে আটকিয়ে রাখে। উল্টো দাপাদাপি করতে করতে একসময় পোকাগুলোয় হাঁপিয়ে উঠে। এমন আরও অনেক গুণ রয়েছে মাকড়শার জালের সুতোয়। আর সে কারণেই পৃথিবী জুড়ে বিজ্ঞানীরা উঠে পড়ে লেগেছেন কারখানায় কী করে একই ফর্মুলায় এই জালের সুতো তৈরি করা যায়। সে নিয়ে বিজ্ঞানীরা হয়ে উঠেছেন মহাব্যস্ত। সেই পথ খুঁজতে ব্যয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

যে কথা হচ্ছিল, জাল বেয়ে আসা শিকারের কম্পন থেকেই কিন্তু মাকড়শারা ‘খবর পড়ে’। তারা জালের কম্পন থেকেই বুঝতে পারে সেটা বাতাসের দোলা, নাকি বন্দী পোকার ছটফটানি, নাকি আপনার-আমার মতন কেউ কাঠি দিয়ে জাল নাড়িয়ে দেখতে চাইছে মাকড়শারা বুদ্ধিমান নাকি বোকা প্রকৃতির।
মাকড়শার শিকার আটকে রয়েছে তারই পাতা জালে।
আবার এখানে অন্য ব্যাপারও আছে বৈকি। কোনো পুরুষ মাকড়শা যদি কোনো স্ত্রী মাকড়শার সাথে ভাব করতে চায়, তবে জালের ধারে এসে তার ভাষায় একটা মিহি টোকা দিয়ে যায়। ঠিক তখন জালের সুতোয় ঢেউ খেলে যায়। স্ত্রী মাকড়শা সে ভাষা বুঝে নিয়ে উল্টো তার দিক থেকেও পাঠিয়ে দেয় দোল তরঙ্গ। তারা এই ঢেউ থেকেই পড়ে নেয় তাদের মনের কথোপকথন। একেকটা মাকড়শা তাদের নিজ নিজ ভাষায় জালে টোকা দেয়। অন্য কোনো প্রজাতির সে ভাষা বুঝতে পারার কথা নয়। কিন্তু এর মাঝেই ঘটনার ক্লাইম্যাক্স তৈরি হয়ে যায় অন্যভাবে। ঠিক সিনেমার ভিলেনদের মতোই উপস্থিত হয় মাঝে মাঝে ‘পোর্শিয়া’ নামের অন্য এক প্রজাতির মাকড়শা।
অতি চালাক ভিলেন মাকড়শা পোর্শিয়া।
এই পোর্শিয়া প্রজাতির মাকড়শারা অন্য বেশ কিছু মাকড়শার জালের ভাষা রপ্ত করে নিয়েছে। তার মতলব কিন্তু ভিন্ন। সে শুধু অন্যের ভাষা বুঝতেই পারে না কেবল, তা নকল করে হুবহু প্রয়োগও করতে পারে। সুযোগ বুঝে কোনো মাকড়শার জালের সুতোয় ঠিক তার ভাষার পাল্টা প্রতিক্রিয়াতেই টোকা দেয়। তারপর ধোঁকা দিয়ে কাছে টেনে নিয়ে আসে সেই জালবাসি বোকা মাকড়শাটিকে। তারপরেই বেজে যায় তার বিদায় ঘণ্টা। বোকা মাকড়শাটিকে কাবু করতে খুব বেশি একটা সময় লাগে না পোর্শিয়া মাকড়শার। কাবু করা শেষেই মনের আনন্দে সেরে নেয় তার লাঞ্চ বা ডিনার।
পোর্শিয়া মাকড়শার চোখের গভীর চাহনি।
বাঁচা- মরা প্রকৃতির খেলা। কে কতদিন বেঁচে থাকবে তা কেউ আগে থেকে বলে দিতে পারে না। প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই এই ভাঙা গড়ার খেলা চালিয়ে যায় নিজ মহিমায়। এ তো গেলো মাকড়শাকে নিয়ে কিছু অজানা তথ্য। পরবর্তীতে এমন আরও ভিন্ন কিছু নিয়ে মজার মজার তথ্যের ডালি সাজিয়ে আসার আশা রইল অন্য মাত্রায়।

Saturday, August 22, 2015

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ টাইটানোবোয়ার ইতিহাস : ফিরে আসতে পারে টাইটানোবোয়া !

সম্প্রতি উত্তর কলম্বিয়ার একটি পরিত্যক্ত কয়লাখনিতে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট বা ১৪ মিটার লম্বা এবং ১ টনের বেশি ওজনের একটি বিশালাকার সাপের ফসিল। এই পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক সকল সাপের মধ্যেই এটিই সবচেয়ে বড়। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন, টাইটানোবোয়া চেরোনোসিস।

টাইটানোবোয়া চেরনোসিস আজ থেকে ৬০ মিলিয়ন বছর আগে কলম্বিয়ার জলাভূমিতে পাওয়া যেত। এই টাইটানোবোয়াগুলো ছিল বর্তমানের বড় আকারের এক একটি অ্যানাকোন্ডার চেয়ে প্রায় ১০গুন বড়। এরা এক একটি এক গালে গিলতে পারতো বড় আকারের কুমির।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সাপ তার শরীরের তাপমাত্রার সাথে পরিবেশের তাপমাত্রার খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে শীতের সময় তারা গর্তে প্রবেশ করে। কিন্তু আজ থেকে ৬০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল আরো উত্তপ্ত ফলে পরিবেশগত কারণে এই বিশালাকার সাপের সৃষ্টি হতো। বড় আকারের কারণে একে বেশিরভাগ সময় পানিতেই কাটাতে হতো।

টাইটানোবোয়া কিন্তু বিষাক্ত কোন সাপ নয়। কিন্তু এটি শিকারকে মেরে ফেলার জন্য যে চাপ প্রদান করতো তাতেই শিকারের প্রাণ ওষ্ঠাগত। শিকার হিসেবে এই প্রাণীটি খেত ৫ ফুট লম্বা কচ্ছপ এবং ২০ ফুট লম্বা কুমির।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোয়ান মিউজিয়াম এই বড় আকারের সাপের একটি রেপ্লিকা প্রদর্শিত করছে। প্রদর্শিত রেপ্লিকা সাপটি যেভাবে একটি বড় আকারের কুমিরকে গিলে ফেলছে তা সত্যি ভয়ানক। একটি অ্যানাকোন্ডা সাপ কাদাময় জলাভুমি কিংবা গভীর নদীর মধ্য দিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট শ্বাস না নিয়ে সাঁতার কাটতে  পারে।

প্রাণীবিজ্ঞানীরা মনে করেন, টাইটানোবোয়া তার ওজনের কারণে এতো বেশি সময় পানির নিচে শ্বাস না নিয়ে সাঁতার কাটতে পারবে না। তাই তারা সম্ভবত মাথাকে পানির উপরে রেখে সাঁতার কাটতো। ৬০ মিলিয়ন বছর আগে পেলিওসিস যুগে পরিবেশের যে তাপমাত্রা ছিল তাতে এই বিশালাকার প্রাণীগুলো টিকে থাকতো।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের এই আশংকার দিকে নিয়ে যাচ্ছে যে, বিশালাকার প্রাণীগুলো পরিবেশে আবার ফিরে আসতে পারে। উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীগুলো যত বড় আকারের হবে ততই তারা হিমশীতল পরিবেশের দিকে ধাবিত হবে যেমন মেরুভালুক। আবার একইভাবে শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীরা চাইবে উত্তপ্ত পরিবেশ।

টাইটানোবোয়াগুলো কেন বিলুপ্ত হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ আছে কোন কোন প্রাণীবিদ বলে থাকেন, পরিবেশের তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়নি। আবার অন্যরা মনে করেন, বিশালাকার এবং মাংসাশী হওয়ার কারণে এর খাদ্যের সংকট দেখা দেয় ফলে বিলুপ্ত হয়।