Showing posts with label সাম্প্র‌তিক বিশ্ব. Show all posts
Showing posts with label সাম্প্র‌তিক বিশ্ব. Show all posts

Wednesday, August 8, 2018

কী হতো যদি নাৎসি বাহিনীর কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হতো?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভুল ছিল হঠাৎ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করা, যার ফলে ইস্টার্ন ফ্রন্টে নাৎসিদের করুণ পরাজয়ের পাশাপাশি যুদ্ধের মোড়ও ঘুরে গিয়েছিল। সোভিয়েত রাজধানী পর্যন্ত নাৎসিদের হাত পৌঁছে গেলে হয়তো পশ্চিম ইউরোপে নাৎসিদের আধিপত্য আরো শক্তিশালী হতো, কিংবা হয়তো পার্ল হারবারও আক্রমণ করা হতো না।
'দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ডি-ডে'-এর রচয়িতা প্রফেসর মার্ক মিলনার।
হিটলার যদি মস্কো নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো তবে কী হতে পারতো, তা নিয়েই এক সাক্ষাৎকারে আলোচনা করেছেন নিউ ব্রান্সউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের যুদ্ধ ও সমাজ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মার্ক মিলনার। দ্য ব্যাটল অফ দ্য আটলান্টিক বইটির জন্য ২০০৪ সালে সেরা সামরিক ইতিহাস রচনাকারী হিসেবে সিপি স্টেসি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এই অধ্যাপক সাম্প্রতিক সময়ে নরম্যান্ডির ঘটনা নিয়ে দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ ডি-ডে বইটি রচনা করেছেন। তার মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক এই ‘কী হতো’ ঘটনাটি।

কী হতো যদি অপারেশন বারবারোসায় হিটলার মস্কো দখল করে ফেলতে পারতো?

হিটলার, অবশ্যই ভেবেছিল যে মাত্র ছয় থেকে দশ সপ্তাহের মধ্যেই পুরো সোভিয়েত ইউনিয়নের দখল নিতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে এটি পুরোটাই ছিল অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফসল। তাছাড়া জার্মান গুপ্তচররাও সোভিয়েত রিজার্ভ বাহিনীর আসল সংখ্যাসহ আরো নানা বিষয়েই অজ্ঞ ছিল। যা-ই হোক, অলৌকিকভাবে নাৎসিরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের দখল নিতে পারতো, তবে ঘটনাটি হয়তো অনেকটা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মতো হতো, যেখানে জার্মানরা ইস্টার্ন ফ্রন্টে জয়লাভ করেছিল।

বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রুশ জারের পতনের পর বলশেভিকরা জার্মানির সাথে শান্তিচুক্তি করে, এবং জার্মানরা পশ্চিম ফ্রন্টে মনোনিবেশ করে। যদি হিটলার মস্কোর উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারতো, তবে এরকমই কিছু হতো আর এরপরের ঘটনা যেকোনো কিছুই হতে পারতো।

তো সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর পূর্ণ দখল আনতে জার্মানির তখন কী করা উচিৎ ছিল? 

সোভিয়েতের উপর পূর্ণ জয়লাভ করাটাই আসলে বেশ একটু বিতর্কের ব্যাপার। মূল কথাটা হচ্ছে, মস্কোর ভূমিকাটা কী হতো? আরএইচএস স্টোলফি তার হিটলার’স পাঞ্জারস ইস্ট বইতে মতামত দিয়েছেন, অপারেশন বারবারোসাই ছিল পুরো বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। তার মতে, ১৯৪১-এর আগস্টে জার্মানি যদি ইউক্রেনের দিকে গিয়ে লেনিনগ্রাদ অবরোধ করে, পরবর্তীতে মস্কো আক্রমণ করার পরিকল্পনার পরিবর্তে সরাসরি মস্কোতে আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করতো তবে হয়তো সোভিয়েতের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারতো। তো মূল প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছে, “সোভিয়েত শাসকদের পতন ঘটাতে আসলে কী প্রয়োজন ছিল?”
জার্মানি ১৯১৭-১৮ সালে যা করেছিল, তখন ছিল সরকার পরিবর্তনের সময়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি মস্কোর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি, তারা শুধুমাত্র কিয়েভ আর রিগার দখল নিয়েছিল, এবং এটুকুই প্রয়োজন ছিল জারের রাশিয়ার পতন ঘটাতে। বলশেভিকরাও ঝামেলা এড়াতে জার্মানির চুক্তি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সোভিয়েত শাসন সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্টালিন জনগণের উপর যেরকম প্রভাব ফেলতে পেরেছিল, জার দ্বিতীয় নিকোলাসের তেমন কিছু ছিল না। তাছাড়া, লেনিনগ্রাদে নাৎসিদের নৃশংসতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, নির্দয় স্টালিনের পতন দেখতে চাওয়া জনগণও বুঝতে পেরেছিল নাৎসিদের চেয়ে স্তালিনই মন্দের ভালো।
সরাসরি মস্কো আক্রমণ করলেও কি জার্মানি সোভিয়েতের পতন ঘটাতে পারতো?
আমার নিজস্ব মতামত হচ্ছে যে, নাৎসিরা কোনোভাবেই ১৯৪১ শেষ হওয়ার আগে মস্কো দখল করতে পারতো না। যদি নিতোও, তবুও ঠাণ্ডার সুযোগ নেওয়া সোভিয়েত প্রতি-আক্রমণে তা পুনরায় হাতছাড়া হয়ে যেত, যেমনটা হয়েছিল স্তালিনগ্রাদে ১৯৪২-৪৩ এ। এরপরেও কথা থেকে যায়, মস্কোর পতন মানেই রাশিয়ার পতন নয় যেমনটা হয়েছিল নেপোলিয়নের ক্ষেত্রে। নাৎসিরা যদি মস্কো দখল করে নিতোও, তবুও সোভিয়েতদের দেশে সীমিত রসদ নিয়ে টিকতে পারতো না। সোভিয়েত রিজার্ভ বাহিনীর আকার, সোভিয়েতদের মৃত্যুকঠিন প্রত্যয় আর তাদের বিশাল মানচিত্রটার কথাই ভাবুন।

অক্ষশক্তির কাছে রাশিয়ার পতন ঘটতে দেখলে মিত্রবাহিনী কী প্রতিক্রিয়া দেখাতো বলে আপনি মনে করেন?

এর অনেককিছুই নির্ভর করে এটি কোন সময়ে হচ্ছে, এবং ঐ সময়ে পৃথিবীতে আর কী কী ঘটছে। খেয়াল করে দেখুন, নাৎসিদের ঐ পরাজয়ের পরপরই কিন্তু জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করে, এবং আমেরিকানরা পুরোপুরিভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যদিও তারা ব্রিটিশদেরকে সাহায্য করে যাচ্ছিলো, কিন্তু ঐ আকস্মিক আক্রমণের কারণেই কিন্তু তারা পুরোদমে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর তখনই জার্মানি আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। সুতরাং মস্কোর পতন হলেও জার্মানিকে ব্রিটেন আর আমেরিকার সাথে যুদ্ধ করতে হতো।
সাইবেরিয়ায় আক্রমণ না করে পার্ল হারবারে আক্রমণ করাই হয়তো অক্ষশক্তির অন্যতম বড় ভুল ছিল।
তবে একে অন্যভাবেও কল্পনা করা যায়, যেখানে আমেরিকাকে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা যেত। কল্পনা করুন, জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ না করে সাইবেরিয়ার দিকে নজর দিলো। এদিকে একদিকে যেমন সোভিয়েতের পতন দ্রুত ঘটতো, অন্যদিকে আমেরিকাকেও যুদ্ধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যেত। সোভিয়েতরা সাইবেরিয়া থেকে তখনই সৈন্য সরিয়ে নিয়েছিলো, যখন তারা নিশ্চিত হয়েছিল যে সাইবেরিয়া দিয়ে জাপানের আক্রমণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর সাইবেরিয়ায় রাখা সৈন্য দিয়েই পরবর্তীতে তারা পূর্ব ইউরোপে জার্মানির বিরুদ্ধে পুরোটা শক্তি কাজে লাগাতে পেরেছিল। রাশিয়ার পতন হলে এবং আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়লে, ব্রিটেনের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই নিরাশাজনক হয়ে পড়তো।
এরকম পরিস্থিতিতে জার্মানি ব্রিটেনকে হয়তো একঘরে করে ফেলতে পারতো। মনে করে দেখুন, নেপোলিয়ন রাশিয়া আক্রমণ করেছিল ইউরোপে ব্রিটেনের শেষ মিত্রকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য, যাতে করে ব্রিটিশরা যুদ্ধ করার আর কোনো উপায় না খুঁজে পেতে পারে। সুতরাং, এরকম একটা পরিস্থিতি কল্পনাই করা যায়, যেখানে হিটলার পুরো মহাদেশ দখল করে নিয়েছে, যেখানে শেষ বাধা একমাত্র ব্রিটেন। ইউ-বোট আর লুতওয়াফে বোম্বারগুলোর বিরতিহীন আক্রমণে ব্রিটেন হয়তো শেষমেশ সাদা পতাকা ওড়াতে বাধ্য হতো।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে নামার পরেও কি অপারেশন বারবারোসার জয় প্রভাব রাখতো?

ধরে নেই, জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের পরও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে, আমেরিকাও সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতিটা অনেকটাই ১৯১৮ সালের মতো, যেখানে জার্মানরা ইস্টার্ন ফ্রন্টে জয়লাভ করেছে, এবং ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা ব্যর্থ হয়েছিল যখন মার্কিন সৈন্যরা হানা দেওয়া শুরু করলো। ১৯৪২-৪৩ সালেও কী হতে পারে সেটা বেশ আগ্রহোদ্দীপক বিষয়। সোভিয়েতের পতন ঘটলেও ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে মিত্রবাহিনী নাৎসিদেরকে কি হারাতে পারতো?
এ নিয়ে বেশ বড় ধরনের বিতর্ক রয়েছে। একদিকে রয়েছে নরম্যান ডেভিসের (ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ) মতো ব্যক্তিরা, যারা মনে করেন যুদ্ধের বেশিরভাগটাই নির্ভরশীল ছিল ইস্টার্ন ফ্রন্টের ফলাফলের উপর, ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টের যুদ্ধ ছিল নিছকই ছেলেখেলা ইস্টার্ন ফ্রন্টের তুলনায়। এবং যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর জয় নয় বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের জয়ই বেশি প্রভাব রেখেছিল।
সম্পূর্ণ ইউরোপের দখল নিতে পারলেও জার্মানিকে হারতে হতো পারমাণবিক বোমার আঘাতে।
অন্যদিকে ফিলিপস ও’ব্রায়েনসহ (মার্কিন ইতিহাসবিদ) অন্যান্যদের মতে, সোভিয়েতের পতন ঘটলেও নাৎসিদেরকে হারানো মিত্রবাহিনীর জন্য খুব একটা কঠিন হতো না। আমার নিজস্ব মতামত এই দুই মতের মাঝামাঝি। ইস্টার্ন ফ্রন্টে নাৎসিরা জয়লাভ করলে পুরো ইউরোপকে তারা একটি শক্তিশালী দুর্গের মতো বানিয়ে রাখতো, যার ফলে মিত্রবাহিনীর আক্রমণগুলো নস্যাৎ হয়ে যেত।    
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ফ্রান্সে কোনো পদাতিক বাহিনী না থাকা মিত্রবাহিনীর জন্য বেশ বড় একটা বাধা ছিল। এ অবস্থায় হয়তো চ্যানেল আর ভূমধ্যসাগর দিয়ে আক্রমণই ছিল মিত্রবাহিনীর একমাত্র ভরসা। ও’ব্রায়েনের যুক্তির একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো, তিনি মনে করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশিরভাগটাই হলো আকাশযুদ্ধ। এবং ১৯৪২-৪৩ এর সময়ে মিত্রবাহিনী আকাশপথে নাৎসিদেরকে পরাস্ত করে জার্মানিতে বোমাবর্ষন করা শুরু করেছিলো। এ অবস্থায় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে গ্র্যাউন্ড ওয়্যারে নামতে মিত্রবাহিনীর কয়েক বছর লেগে যেত, কিন্তু আকাশপথে তারা ক্রমেই যুদ্ধ চালিয়ে যেত। বোম্বারের আক্রমণে জার্মান শহরগুলো ধ্বংস হলেও বাস্তবে জার্মানরা কিন্তু তখনো পুরো ইউরোপ নিয়ন্ত্রণ করছে।
অবশেষে ১৯৪৫ সালে মার্কিনদের হাতে পারমাণবিক বোমা আসার পর জার্মানদের অবস্থাও হয়তো জাপানীদের মতো হতো। বার্লিন, মিউনিখের পরিণতিও হয়তো হিরোশিমা আর নাগাসাকির মতো হতো। তবে জাপানীদের তুলনায় অনেক বেশি এলাকা আর সম্পদ থাকায় নাৎসিদেরকে সম্পূর্ণভাবে গুড়িয়ে দিতে আরো বেশি বোমার প্রয়োজন হতো মিত্রবাহিনীর।

Sunday, October 15, 2017

দুনিয়া কাঁপিয়ে দেয়া ৯টি ছবি!

বলা হয়ে থাকে, একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা যায় তা হাজার লাইন লিখেও করা যায় না। কিছু ছবি মানুষকে হাসায়, কিছু বিষণ্ণ করে, কিছু হয়তো আতঙ্কগ্রস্তও করে। কিন্তু এরকম কিছু ছবি আছে যা মন ছুঁয়ে যায়, কাঁদতে বাধ্য করে একজন মানুষকে। আপনার হৃদয়কে কিছুটা নাড়া দিবে হয়ত মাত্র এই কয়েকটা ছবি। চলুন দেখে নেয়া যাক ছবিগুলো।


(১) ভূপালের গ্যাস ট্রাজেডিঃ

ছবি-১
১৯৮৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভূপালে একটি কীটনাশক তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটলে বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানাইড গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫ জন মানুষ আহত হন এবং নিহত হন প্রায় ১৫ হাজারের মত মানুষ। ফটোসাংবাদিক পাবলো বার্থোলোমিউ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ ছবিটি তারই তোলা যা দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটিকে মাটিতে সমাহিত করার আগ মূহুর্তে তোলা হয়।

(২) রানা প্লাজায় ধসঃ

ছবি-২
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় মুহূর্তেই মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শোক এবং উৎকণ্ঠা। ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত-নিহত মানুষদের বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটা চলেছে দিনের পর দিন। আর তার মাঝে দিয়ে আমরা সবাই একটু একটু করে উপলব্ধি করেছি নিদারুণ সেই বিভীষিকা। ব্যাপারটি এতই গুরুতর যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে এর সংবাদ চলে যায়, সেই সাথে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলা বিভিন্ন ছবি। যেমন, তাসলিমা আখতারের তোলা প্রচ্ছদের এই ছবিটি। দুইজন মানুষের পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার যে ভীষণ আকুতি উঠে এসেছে এই ছবিতে, শত বলেও তা ব্যাখ্যা করা যাবে না। কি করে মৃত্যু হলো তাদের? তারা কি একজন আরেকজনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন? কেমন ছিলো তাদের জীবন, তাদের স্বপ্ন? না জানি কী ভীষণ ভালোবাসায় মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তারা! পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখনো আলোচিত হয়ে যাচ্ছে মর্মস্পর্শী এই নিদারুণ করুন ছবিটি।

(৩) ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট্ট মেয়েটিঃ

ছবি-৩
এ ছবিটি একটি ছোট মেয়ের, যে কিনা ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। কেমোথেরাপির কারণে তার মাথার চুল সব পড়ে যায়। আয়নাতে কি মেয়েটি তার মনের ইচ্ছাটুকুই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছিল? মেয়েটি এখনো বেঁচে আছে কিনা আমাদের জানা নেই।

(৪) মানুষ মানুষের জন্যঃ

ছবি-৪
উগান্ডাতে ১৯৮০ সালে চলছিল প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ। অনাহারের শিকার এক শিশুর হাত পরম মমতায় ধরে রেখেছেন দাতব্য সংস্থার একজন কর্মী। মর্মস্পর্শী এ ছবিটি তুলেছেন মাইক ওয়েলস।

(৫) প্রিয় শিক্ষকের জন্য বেদনার সুরঃ

ছবি-৫
ডিয়েগো ফ্র্যাজাও টোরকোয়াটো নামে ১২ বছরের এই ব্রাজিলিয়ান ছেলেটি তার প্রিয় শিক্ষকের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ভায়োলিন বাজাচ্ছে, চোখে বেয়ে ঝরে পড়ছে তীব্র কষ্টের অশ্রু। সেই শিক্ষক ছোট এ ছেলেটিকে সঙ্গীতের সাহায্যে দারিদ্র ও সংঘাত থেকে মুক্তি পেতে সহযোগিতা করেছিলেন।

(৬) ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে পড়ন্ত মানুষঃ

ছবি-৬
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় বিধ্বস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার। পুরো ভবনে আগুন ধরে গেলে অনেকেই নিচে ঝাঁপ দেন জীবন বাঁচানোর আশায়। সেরকমই এক হতভাগ্য ব্যক্তির ছবি তুলেন এপি’র আলোকচিত্রশিল্পী রিচার্ড ড্রিউ। বলাই বাহুল্য যে মানুষটি বাঁচাতে পারেন নি নিজের জীবন।

(৭) থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাঃ

ছবি-৭
থাইল্যান্ডের নির্বাসিত স্বৈরশাসক ফিল্ড মার্শাল থামম কিটিকাচর্নের দেশে ফিরে আসার কথা শুনে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো থাইল্যান্ড। থামাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভরত ছাত্রদের উপর গণহত্যা চালানো হয় ১৯৭৬ সালের ৬ অক্টোবর। বহু ছাত্রকে গুলি করে, পিটিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। সেরকমই একটি ঘটনার ছবি তুলেছেন নীল ইউলেভিচ, যেটা ১৯৭৭ সালে পুলিৎজার প্রাইজ পায়।

(৮) সুদানের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ১৯১৩ঃ

ছবি-৮
বিশ্ববিখ্যাত ও একইসাথে প্রবল সমালোচিত এ ছবিটি ১৯৯৩ সালে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আর এর মাধ্যমেই আলোতে আসেন আলোকচিত্রশিল্পী কেভিন কার্টার। সুদানের দুর্ভিক্ষের সময় তোলা এ ছবিটি ১৯৯৪ সালে জিতে নেয় পুলিৎজার পুরস্কার। এতে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষে খেতে না পেয়ে জীর্ণ-শীর্ণ একটি শিশু মাটিতে মূমুর্ষ অবস্থায় পড়ে আছে, আর খুব কাছেই একটি শকুন বসে আছে। যেন কখন শিশুটি মারা যাবে ও এটা শিশুটিকে খেয়ে ফেলতে পারবে তারই অপেক্ষা। ছবিটি ভয়াবহ বিতর্ক তৈরি করে। কথা উঠে যে, ছবি তুলে শিশুটিকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টা কেভিন করেছিলেন কি না? কেভিনের নিজেরও মনে হতে শুরু করে যে, তিনি হয়তো চাইলে শিশুটিকে বাঁচাতে পারতেন। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে ১৯৯৪ সালে তিনি আত্মহত্যা করেন। যদিও শিশুটি সেসময় মারা যায় নি, আরো বেশ কিছুদিন বেঁচে ছিল। নিয়ং কং নামের ছবির ছেলেটি মারা যায় ২০০৭ সালে।

(৯) যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়ঃ

ছবি-৯
১৯৮৫ সালে কলম্বিয়াতে আরমেরো নামে ছোট গ্রামের পাশেই নেভাদো দেল রুইজ নামে আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। পুরো গ্রামের উপর এর প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ। এতে ব্যপক ভূমিধ্বসের সৃষ্টি হয়। অমায়রা স্যানচেজ নামে ১৩ বছরের এই মেয়েটি একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধারকর্মীদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে টানা ৬০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর সে মারা যায়।

Saturday, October 7, 2017

চীনের প্রথম মহাকাশ ষ্টেশন পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে যাচ্ছে কয়েক মাসের মধ্যে।

প্রায় দশ টন ওজনের চৈনিক মহাকাশ স্টেশন টিয়াংগং-১ পৃথিবীর দিকে এর অবনমনের গতি ত্বরান্বিত করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পৃথিবীর চারদিকে পাক খেতে খেতে নামতে নামতে বায়ুমন্ডলের সাথে সংঘর্ষে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই স্টেশনের অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে তবে প্রায় ১০০ কেজি ওজনের একটুকরো অবশেষ টিকে গিয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছাবে এবং এটি ঠিক কোথায় এসে আঘাত করবে তা কেউ জানে না।
চীনের প্রথম আন্তর্জাতিক মহাকাশ ষ্টেশন টিয়াংগং-১।
২০১১ সালে চীনের একটি মহাকাশকেন্দ্র উৎক্ষেপন করা হয় এবং এতে পরবর্তিতে তিনটি মহাকাশ অভিযান পরিচালনা করা হয় যার মাধ্যমে মহাশূন্যে অভিযাত্রা করেন চীনের প্রথম নারী নভোচারী লিউ ইয়াং এবং ওয়াং ইয়াপিং। স্টেশনের নামের অর্থ হলো ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’। এটি ২০২৩ সালে পরিকল্পিত বড়সড় মহাকাশকেন্দ্র উৎক্ষেপনের আগে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপন হিসেবে দেখা হয়েছে।
পৃথিবীতে কিভাবে আছড়ে পড়তে পারে টিয়াংগং-১, তার কাল্পনিক চিত্র।
এটিকে কখনোই স্থায়ী করার চিন্তা করা হয় নি এবং ২০১৬ সালে চীনের সরকার এর সমাপ্তির সময় হয়ে এসেছে বলে ঘোষনা করে। চীনের কর্মকর্তাগণ স্বীকার করেন তাঁরা এর উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছেন এবং এটি পাক খেতে খেতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসছে। সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন এই স্টেশনটি অক্টোবর ২০১৭ হতে এপ্রিল ২০১৮ সালের মধ্যে কোনো এক সময় পৃথিবী পৃষ্ঠে এসে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য কার্যক্ষম অবস্থায় এর উচ্চতা ছিলো ৩৭০ কিলোমিটার। পৃথিবী এবং মহাশূন্যের মাঝে যে সীমারেখা, সেই কারমান রেখার অবস্থান পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায়।

Friday, September 15, 2017

কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল স্টেডিয়ামগুলো।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে কাতারে। আর সেই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতার তৈরি করছে একাধিক দৃষ্টিনন্দন নতুন স্টেডিয়াম। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, স্টেডিয়ামগুলো একইসাথে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিরও সর্বোত্তম ব্যবহার করবে। সেগুলো হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, শূন্যভাগ কার্বন নিঃসরণকারী এবং পরিবেশ বান্ধব। অধিকাংশ স্টেডিয়ামের অংশবিশেষ তৈরি হবে স্থানান্তরযোগ্যভাবে, যেন বিশ্বকাপ শেষে সেগুলো বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে স্থানান্তর করে আরো ২২টি স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে নির্মিতব্য কাতারের দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামগুলো।

লুসাইল স্টেডিয়ামঃ

লুসাইল স্টেডিয়াম হবে কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এর অবস্থান হবে রাজধানী দোহা থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে নবনির্মিত লুসাইল সিটিতে এবং ধারণ ক্ষমতা হবে প্রায় ৮৬,০০০।
লুসাইল স্টেডিয়াম।
এই স্টেডিয়ামেই ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী এবং সমাপনী খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। বৃত্তাকার স্টেডিয়ামটির চারপাশে কৃত্রিম জলাধারথাকবে। জলাধারের বাইরে অবস্থিত ছয়টি পার্কিং এরিয়ার সাথে স্টেডিয়ামটি সেতু দ্বারা সংযুক্ত থাকবে।
লুসাইল স্টেডিয়াম।
এর গোলাকার ছাদের অংশবিশেষ সম্পূর্ণ ঢেকে এটিকে ইনডোর স্টেডিয়ামে পরিণত করা, অথবা সম্পূর্ণ খুলে উন্মুক্ত আকাশের দৃশ্য উপভোগ করা সম্ভব হবে। স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ মাত্র শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে এর উদ্বোধন করা হতে পারে।

আল-বাইত স্টেডিয়ামঃ

আরবি বাইত শব্দটির অর্থ বাড়ি। কাতারের আল-খোর শহরে নির্মাণাধীন আল-বাইত নামক এই স্টেডিয়ামটি দেখতে হবে বিশাল এক তাঁবুর মতো, যে ধরনের তাঁবু কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রে বেদুইন আরবদের বাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আল-বাইত স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ৬০,০০০ এবং এতে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক খেলার আয়োজন করা হবে। স্টেডিয়ামটি বর্তমানে নির্মাণাধীন আছে এবং ২০১৯ সালে এটি উদ্বোধনকরার পরিকল্পনা আছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সত্যিকার তাঁবুর মতোই এর অংশবিশেষ স্থানান্তর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে। এর উপরের সারির আসনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেগুলোকে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
আল-বাইত স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপ শেষে অন্য আরও কয়েকটি স্টেডিয়ামের মতো আল-বাইত স্টেডিয়ামের অংশবিশেষও উপরের সারির আসনগুলো স্থানান্তর করে উন্নয়নশীল আরব দেশগুলোতে নিয়ে সেখানকার স্টেডিয়ামে স্থাপন করা হবে। তখন এটি ৬০,০০০ আসনের পরিবর্তে ৩২,০০০ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত হবে।

আল-রায়ান স্টেডিয়ামঃ

কাতারের আল-রায়ানে অবস্থিত আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামটি মূলত স্থানীয় অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব আল-রায়ান স্পোর্টস ক্লাবের স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটিকেই পুনঃসংস্কার করে আল-রায়ান স্টেডিয়াম নামে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এর ধারণ ক্ষমতা হবে প্রায় ৪৪,৭৪০। এই স্টেডিয়ামটিও বর্তমানে নির্মাণাধীন আছে এবং ২০২১ সালে এটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা আছে।
আল-রায়ান স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামটির বাইরের আবরণটি একটি সুবিশাল ত্রিমাত্রিক গোলাকার পর্দা হিসেবে কাজ করবে, যা বিজ্ঞাপন সহ বিভিন্ন দৃশ্য প্রক্ষেপণ করবে। এর নকশা এবং প্রক্ষেপিত দৃশ্যাবলির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে পরিবারের গুরুত্ব, মরুভূমির সৌন্দর্য, স্থানীয় উদ্ভিদ এবং প্রাণীকুলের বৈচিত্র্য, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইত্যাদি।

আল-থুমামা স্টেডিয়ামঃ

আল-থুমামা স্টেডিয়ামটির ডিজাইন কাতারের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পরিচয়ের একটি নিদর্শন। এটি দেখতে বিশাল একটি টুপির মতো, যাকে স্থানীয় ভাষায় গাফিয়া বলা হয়। হাতে বোনা এ ধরনের টুপি শুধু কাতার না, প্রায় সবগুলো উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রের পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আল-থুমামা স্টেডিয়াম।
গাফিয়া নামক এ টুপিগুলো মাথায় পরিধান করা তিনটি বস্ত্রাংশের মূল ভিত্তি। এই টুপির উপরে পরা হয় এক টুকরো কাপড়, যাকে বলা হয় গুত্রা। তার উপরে থাকে কালো রংয়ের দড়ি সদৃশ আগাল, যা গাফিয়ার উপরে গুত্রাকে বেঁধে রাখে।
আল-থুমামা স্টেডিয়াম।
থুমামা স্টেডিয়ামটির অবস্থান হবে রাজধানী দোহার সমুদ্রতীরের প্রমোদোদ্যান থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। এর ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ৪০,০০০ এবং এতে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত একাধিক ম্যাচের আয়োজন করা হবে। অতি সম্প্রতি এর পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা আছে।

খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামঃ

১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়ামটি কাতারের সবচেয়ে পুরানো স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটি। শুরু থেকেই এটি কাতারের ক্রীড়াজগতের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে এসেছে। এই স্টেডিয়ামে বিভিন্ন সময় এশিয়ান গেমস, গাল‌ফ কাপ, এএফসি এশিয়ান কাপ সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলোর আয়োজন করা হয়েছে। এটি মূলত দোহা স্পোর্স্টস সিটির একটি অংশ। এর নামকরণ করা হয়েছিল কাতারের সাবেক আমির খালিফা বিন হামাদ আল থানির নামানুসারে।
খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ ২০২২কে সামনে রেখে স্টেডিয়ামটিকে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। আগে থেকেই এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় নকশার দ্বৈত খিলান। সংস্কারের পরও খিলান দুটি আগের মতোই আছে, তবে তাদের নিচে বাড়তি যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ পথ জুড়ে প্রশস্ত শামিয়ানা। নতুন করে সংস্করণ সম্পন্ন করার পর গত মে মাসে আমির কাপের চূড়ান্ত ম্যাচ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাতারের আল-রায়ানে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করা হয়।  বর্তমানে এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৮,০০০।

আল-ওয়াকরাহ স্টেডিয়ামঃ

অত্যন্ত সৃজনশীল, উচ্চাকাঙ্খী এবং নান্দনিক ডিজাইনের এই স্টেডিয়ামটি ইরাকি-আমেরিকান স্থপতি জাহা হাদিদের অসাধারণ একটি সৃষ্টি।

আল-ওয়াকরাহ স্টেডিয়াম।
বক্রতার রাণী হিসেবে খ্যাত জাহা হাদিদ তার এই নকশাতেও তার ঢেউ খেলানো বক্রতলের অনন্য স্থাপত্যশৈলীর স্বাক্ষর রেখেছেন। আরব উপসাগরের বুকে ঢেউয়ের স্রোতে ভেসে চলার সময় স্থানীয় ‘দাউ’ নৌকার ফুলে ওঠা পালের আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই জাহা হাদিদ এই স্টেডিয়ামটির নকশা করেছেন।
আল-ওয়াকরাহ স্টেডিয়াম।
এই স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০,০০০। এখানেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ম্যাচের আয়োজন করা হবে। বর্তমানে নির্মাণাধীন এই স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।

কাতার ফাউন্ডেশন স্টেডিয়ামঃ

কাতার ফাউন্ডেশন স্টেডিয়মটি এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। কারণ এটি নির্মাণ করা হচ্ছে কাতারের এডুকেশন সিটিতে, যেখানে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাকেন্দ্র অবস্থিত। স্টেডিয়ামটির জটিল জ্যামিতিক নকশা একই সাথে ঐতিহাসিক ইসলামিক স্থাপত্য এবং আধুনিত প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়। এর বহির্ভাগে থাকবে ত্রিভুজ এবং হীরকাকৃতির জটিল জ্যামিতিক নকশা, যার রং সূর্যের স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হবে।
কাতার ফাউন্ডেশন স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপ আয়োজন শেষ হওয়ার পর এই স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতাও ৪০,০০০ থেকে কমিয়ে ২৫,০০০-এ নিয়ে আসা হবে। অতিরিক্ত ১৫,০০০ আসন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দান করা হবে, যেন সেসব দেশেও উপযুক্ত স্টেডিয়াম তৈরির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ক্রীড়ানুরাগ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়। বর্তমানে নির্মাণাধীন এই স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালেউদ্বোধন করা হতে পারে।

আল-গাফারা স্টেডিয়ামঃ

কাতারের আল-রায়ানে অবস্থিত থানি বিন জাসেম স্টেডিয়ামটি স্থানীয়ভাবে আল-গাফারা ফুটবল টিমের ব্যবহৃত একটি স্টেডিয়াম। ২০০৩ সালে এএফসি এশিয়ান কাপের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এর উদ্বোধন করা হয়। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ উপলক্ষে একে পুনঃসংস্কার করে আল-গাফারা স্টেডিয়াম হিসেবে উন্মোচন করার পরিকল্পনা আছে।
আল-গাফারা স্টেডিয়াম।
পরিকল্পনানুযায়ী এর বহির্ভাগের নকশার রং হবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত দেশগুলোর পতাকার রং সমূহের সমষ্টি। এর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ফুটবল প্রিয় দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা হবে, তেমনি দেশগুলোর মধ্যকার বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্মানও স্বীকৃতি পাবে। বর্তমানে এর ধারণ ক্ষমতা ২৫,০০০ হলেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে এটিকে ৪৫,০০০ আসনে উন্নীত করা হবে। নতুন সংযোজিত আসনগুলো হবে স্থানান্তরযোগ্য, যেগুলো পরবর্তীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দান করা হবে।

উম্ম সালাল স্টেডিয়ামঃ

কাতারের উম্ম সালাল শহরে একই নামের এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হবে। শহরটির অবস্থান কাতারের দক্ষিণ-পূর্বে, রাজধানী দোহা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে।
উম্ম-সালাল স্টেডিয়াম।
এর আসন সংখ্যা হবে আনুমানিক ৪৫,০০০। নকশা করা হয়েছে নিকটবর্তী একটি ঐতিহাসিক দুর্গ অবলম্বনে।
উম্ম-সালাল স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপের পর স্টেডিয়ামটি উম্ম সালাল এফসি স্পোর্টিং ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

দোহা পোর্ট স্টেডিয়ামঃ

কাতারের রাজধানী দোহায় নির্মিতব্য এই স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে ৪৫,০০০। এর অবস্থান হবে সমুদ্রের বুকে একটি কৃত্রিম দ্বীপের উপর। এটি নির্মাণ করা হবে সম্পূর্ণ মডুলার পদ্ধতিতে।
দোহা পোর্ট স্টেডিয়াম।
অর্থাৎ ফ্যাক্টরিতে পূর্ব থেকে প্রস্তুতকৃত অংশগুলো স্থানান্তর করে সেগুলোকে জুড়ে দিয়ে সম্পূর্ণ স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হবে। বিশ্বকাপের পর সম্পূর্ণ স্টেডিয়ামটিকে আবার খুলে ফেলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে।

আল-শামাল স্টেডিয়ামঃ

কাতারের আল-শামাল শহরে এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হওয়ার কথা আছে। এর ধারণ ক্ষমতা হবে প্রায় ৪৫,০০০।
আল-শামাল স্টেডিয়াম।
স্টেডিয়ামটির নকশা করা হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিখ্যাত মাছ ধরার নৌকা ‘দাউ’র গঠন অবলম্বনে। স্টেডিয়ামটিকে পাশ থেকে দেখলেই মনে হবে এটি বুঝি তীরে দাঁড়িয়ে আছে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।
আল-শামাল স্টেডিয়াম।
এই স্টেডিয়ামটিরও উপরের সারির আসনগুলো স্থানান্তরযোগ্য হবে এবং বিশ্বকাপের পর সেগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দান করে দেওয়া হবে।

Thursday, September 7, 2017

বিশ্বের সেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতি বছর বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগে পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং করা হয়। বিভিন্ন মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে এসব তালিকা তৈরি করা হয়। ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার পরিবেশ, ল্যাবরেটরি, গবেষণাপত্রের সংখ্যা, গবেষণার মান, নিজস্ব ওয়েবসাইট প্রভৃতি হচ্ছে র‍্যাংকিংয়ের ভিত্তি। একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একেক বিশ্ববিদ্যালয় সেরার অবস্থানে আসে।
অক্সব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
আবার একেক বছর সেরা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একেক অবস্থানে থাকে। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলোকে যে স্কেল দিয়ে যাচাই করা হোক না কেন, যে বছরেই বিবেচনা করা হোক না কেন, ঘুরেফিরে প্রথম দিকেই থাকে। এরকম কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমআইটি, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, ক্যালটেক, স্ট্যানফোর্ড, ক্যামব্রিজ, প্রিন্সটন প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়। এরকম সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তুলে ধরা হলো এখানে। তালিকার ক্রম সাজাতে টাইম হায়ার এডুকেশন প্রকাশিত র‍্যাংকিং ব্যবহার করা হয়েছে।


১. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য):

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য।
নানা দিক থেকে নানা বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো অক্সফোর্ডের চেয়ে উপরে অবস্থান করতে পারবে। কিন্তু কিছু দিক থেকে অক্সফোর্ডের অহংকার শত বছরেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচে যাবে না। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। ১০৯৬ সালেরও আগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব করার মতো অনেক কিছু আছে। দীর্ঘ এই সময়ে হাজার হাজার গুণীজনের জন্ম দিয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। মোটা দাগে উল্লেখ করলে ইংল্যান্ডের ৪ জন রাজা, ২৫ জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ৮ জন বিদেশি রাজা, ১ জন পোপ, ১৮ জন কার্ডিনাল, ৭ জন সেইন্ট এবং প্রায় অর্ধশত নোবেল লরিয়েট এখান থেকে লেখাপড়া সম্পন্ন করেছিলেন। অস্কার ওয়াইল্ড, স্টিফেন হকিং, বিল ক্লিনটন, ইন্দিরা গান্ধী সহ অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। ২২ হাজার ছাত্র একত্রে লেখাপড়া করতে পারে এখানে। ১০০টি লাইব্রেরি মিলে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি সিস্টেম এখানেই অবস্থিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’ নামে একটি স্বতন্ত্র প্রকাশনাও আছে।


২. ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য):

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য।
বেশ কয়েক বছর ধরে এটি প্রথম অবস্থানে ছিল। বর্তমানে অন্যান্যরা উপরে উঠে যাওয়াতে একে কিছুটা নিচে নামতে হয়েছে। এটিও পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। এটি স্থাপিত হয়েছিল ১২০৯ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করতে পারে এখানে। এখান থেকে ৯০ জনেরও বেশি ব্যক্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আবাস ছিল এখানে। আইজ্যাক নিউটন, চার্লস রবার্ট ডারউইন, শ্রীনিবাস রামানুজন, জি এইচ হার্ডি, স্টিফেন হকিং, জামাল নজরুল ইসলাম সহ অনেক বিখ্যাতদের ধারণ করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এখানেও অক্সফোর্ডের মতো বিস্তৃত লাইব্রেরি সিস্টেম আছে। ক্যামব্রিজের লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫ মিলিয়ন বই আছে। তাছাড়াও ‘ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস’ নামে স্বতন্ত্র একটি প্রকাশনা সংস্থা আছে এর। এখান থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উচ্চস্তরের বই প্রকাশ করা হয়। এখানকার গবেষণা সাময়িকীগুলোর মান অনেক ভালো এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেরা গবেষকরা সেখানে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।


৩. ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (যুক্তরাষ্ট্র):

ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ক্যালটেক’ নামেও পরিচিত। ভালো ক্যাম্পাস, উন্নত মানের গবেষণা, গবেষণার উন্নত পরিবেশ প্রভৃতি একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সারা বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে শিক্ষা লাভ করতে আসে। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি, ক্যালটেক সিসমোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি, ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি নেটওয়ার্ক সহ অনেক উন্নতমানের গবেষণাগার এখানে অবস্থিত। ৩৫টি নোবেল পদক, ১টি ফিল্ডস পদক, ৭১টি ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স ও ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি পদকজয়ী সহ আরো অনেক গুণীকে ধারণ করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।



৪. স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র):

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় এটি। সারা বিশ্বে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে। ২১টি নোবেল পুরস্কার সহ অনেক সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আছেন যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গুগলের উদ্যোক্তা ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিন এখানে লেখাপড়া করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিও ছিলেন এখানকার ছাত্র



৫. ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (যুক্তরাষ্ট্র):

ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৮৬১ সালে গৃহযুদ্ধের দুই দিন আগে স্থাপিত হয়। অনেক র‍্যাংকিংয়ে এটি প্রথম অবস্থানে থাকে। আধুনিক ও উন্নতমানের গবেষণার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জুড়ি নেই। চিকিৎসাক্ষেত্রে বা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কিংবা প্রকৌশল ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক গবেষণাগুলো এখানে প্রচুর হয়। ৮৫টি নোবেল, ৫৮টি ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স, ২৯টি ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদকজয়ীরা ঘুরে বেড়িয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিতে-গলিতে। পেনিসিলিনের রাসায়নিক সংশ্লেষণ, রাডারের উন্নয়ন, মৌলিক কণা কোয়ার্কের আবিস্কার, ম্যাগনেটিক কোর মেমোরি, ডিজিটাল কম্পিউটার প্রভৃতি অনেক আবিস্কার এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অলংকৃত করে আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি পৃথিবীর সেরা।



৬. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র):

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৬৩৬ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে প্রথম দিকের দাতা জন হার্ভার্ডের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ১৬৩৮ সালে মারা যাবার আগে তিনি তার লাইব্রেরি এবং অর্ধেক সম্পত্তি দান করে গিয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। ৪৫টি নোবেল, ৪৮টি পুলিৎজার সহ অনেক মূল্যবান পদকজয়ীদের পদচারণা ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি এখানেই অবস্থিত। সাড়ে ২০ মিলিয়ন ভলিউম, ৪০০ মিলিয়ন মেন্যুস্ক্রিপ্ট, ১০ মিলিয়ন আলোকচিত্র, ১২৪ মিলিয়ন ওয়েবপেইজ আর্কাইভ, ৫.৪ টেরাবাইট ডিজিটাল আর্কাইভ সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের সংগ্রহ আছে এখানে।



৭. প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র):

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।
এটিও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষার জন্য সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৭৪৬ সালে। প্রথম দিকে এর নাম ছিল কলেজ অব নিউ জার্সি। পরবর্তীতে ১৮৯৬ সালে এর নাম পরিবর্তন করে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি রাখা হয়। ছাত্রসংখ্যা খুব বেশি নয়, সব মিলিয়ে ১০ হাজারেরও কম শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারে একসাথে। ৪০টি নোবেল পুরস্কার, ১৭টি ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স সহ অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার আছে এর অধীনে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা শিক্ষক, বিজ্ঞানী, লেখক রিচার্ড ফাইনম্যান (পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ী) ছিলেন এখানকার ছাত্র।

৮. ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন (যুক্তরাজ্য):

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান এটি। ১৫ হাজার ছাত্র ও ৮ হাজার শিক্ষক-কর্মীদের উপস্থিতিতে এখানে চলে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা। ১৪টি নোবেল পুরস্কার এসেছে এর মাধ্যমে। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ছিলেন এখানকারই ছাত্র। এইচ জি ওয়েলসের মতো লেখক, রাজিব গান্ধীর মতো রাজনীতিবিদ সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব পড়াশোনা করেছেন এখানে



৯. শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র):

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র।
১৮৯০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৮৯২ সালে প্রথম এর ক্লাস শুরু হয়। ৮০টিরও বেশি নোবেল পদক, বিজ্ঞান ও কলা মিলিয়ে ৩০টি জাতীয় পদক, ৯টি ফিল্ডস পদক সহ অনেক সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। জেমস ওয়াটসন, পল স্যামুয়েলসন, রবার্ট লুকাস, জোসেফ ডেভিসন সহ অনেক নামকরা নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব এখানকার ছাত্র। সুব্রাহ্মণ্যম চন্দ্রশেখর, এনরিকো ফার্মি, মাইকেলসন সহ অনেক গুণী বিজ্ঞানী এখানে ছিলেন শিক্ষক হিসেবে।



১০. সুইস ফেডারেল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (সুইজারল্যান্ড):

সুইস ফেডারেল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, সুইজারল্যান্ড।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি এটি। ‘ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুল’ নামে এর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮৫৫ সালে। আধুনিক পদার্থবিদ্যার জনক আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরবর্তীতে অধ্যাপক। এক্স-রে রশ্মির আবিস্কারক উইলহেম রনজেনের স্নাতক শিক্ষাও এই বিশ্ববিদ্যালয়েই। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার প্রাতঃস্মরণীয় বিজ্ঞানী উলফগ্যাং পলি অধ্যাপনা করেছিলেন এখানে। ইউরোপের জ্ঞানের জগতে গবেষণার জন্য পথিকৃৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও চিকিৎসাশাস্ত্রে মোট ২১ জন নোবেল বিজয়ীর পদচারণায় গর্বিত হয়েছে এই ক্যাম্পাস। বিশ্বের ১২০টি দেশ থেকে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এখানে ব্যস্ত থাকেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় জ্ঞানার্জনের জন্য।


আরো কিছু সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

১১. ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া (যুক্তরাষ্ট্র)
১২. ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৩. জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৪. কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৫. ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (যুক্তরাজ্য)
১৬. ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৭. ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৮. কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
১৯. নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র)
২০. ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র)